দিরাই পৌসরভা নির্বাচন : উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীরা - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

দিরাই পৌসরভা নির্বাচন : উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নিয়ে পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীরা

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। প্রার্থীদের প্রচারণার মাইক নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনার প্রতিযোগিতা চলছে শহরজুড়ে। চায়ের কাপে ঝড় উঠছে নির্বাচনী আলাপচারিতার।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন তাদের সমর্থকরাও। উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নিয়ে প্রার্থীরা যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওর বেষ্টিত দিরাই উপজেলা প্রয়াত রাজনীতিক সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের শহর হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে স্থানীয় নির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচনে দিরাই-শাল্লার ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন সবাই। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা দিরাই পৌরসভার আধুনিকায়নের কথা বলছেন। এছাড়া মানুষের পাশে থেকে সব সময় কাজ করাসহ উন্নয়নের ফুলঝুড়ি নিয়ে সকাল, বিকেল, রাত, এমনকি ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।


আগামী ২৮ ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র পদে আট, কাউন্সিলর পদে ৩৯, সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন লড়ছেন। মেয়র পদে দিরাই পৌরসভার বর্তমান প্যানেল মেয়র দিরাই ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি বিশ্বজিৎ রায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী করেছে উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীকে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ মিয়া। দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কুদ্দুছ মিয়ার ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হাফিজ লোকমান আহমদ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিক মিয়া ও রশিদ মিয়া ভোটে লড়ছেন।

দিরাই পৌর এলাকার ভোটার মোজাহিদ আহমদ জানান, গত ২০ বছরেও দিরাই পৌরসভার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা আওয়ামী লীগ বিএনপি বুঝি না, আমরা এমন একজন মেয়র নির্বাচিত করব যে মেয়র দিরাই উপজেলার অনেক সমস্যা রয়েছে- ড্রেনেজ সমস্যা, সড়ক পাকাকরণ, মহল্লায় মহল্লায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া, মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠন; যার দ্বারা এসব হবে, তাকেই আমরা ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করব।


দিরাই পৌর এলাকার ভোটার মুসলিম উদ্দিন জানান, শিক্ষিত ও রাজনৈতিক সচেতন প্রার্থীকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায়  জানান, নির্বাচিত হলে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর পাশপাশি, মাটির সড়ক পাকাকরণ, সুষম উন্নয়ন, পৌর শহরে কবরস্থান এবং শশ্মাশঘাট নির্মাণ করবেন তিনি।

বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আহমদ তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইঙ্গিত করে বলেন, গত ২০ বছরেও দিরাই পৌরসভার কোনো উন্নয়ন হয়নি। যারা মেয়র হয়েছেন তারা শুধু নিজের উন্নয়ন করেছেন। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগও আছে।

তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান পৌর মেয়র মোশারফ মিয়া বলেন, বিএনপি সরকারের শাসনামলে দিরাই পৌরসভায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন যা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়কালেই। নির্বাচিত হলে দিরাই পৌরসভাকে বদলে দেবার কথা জানালেন তিনি।


দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ তাকে কেন বহিষ্কার করা হবে না মর্মে শোকজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি শোকজের চিঠি পাইনি। পেলে জবাব দেব।

উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাপার লাঙল প্রতীকে ভোট চাইছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী অনন্ত মল্লিকও।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও দিরাই পৌরসভার নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার জানান, পৌরসভার ২১ হাজার ৩৭৯ জন ভোটার ২৮ ডিসেম্বর ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেবেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন তারা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন