শেষবেলায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যস্ত ট্রাম্প প্রশাসন - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

শেষবেলায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যস্ত ট্রাম্প প্রশাসন

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
কিছুদিনের মধ্যে ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আগামী জানুয়ারিতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে তাকে। তার আগেই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি ক্ষুদ্র বাণিজ্য চুক্তি সেরে ফেলতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটাইজার বিবিসি’কে জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি চুক্তির আশা করছেন, যা স্কটিশ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমাতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, তারা মার্কিন বিমান সংস্থার জন্য শুল্কছাড় দেবে। এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোরই একটি প্রচেষ্টা।

তবে রবার্ট লাইটাইজার জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা এয়ারবাসকে সহযোগিতা দেয়া বন্ধ ও মার্কিন সংস্থা বোয়িংকে শুল্কছাড় দেয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, তা যথেষ্ট নয়। তাদের এরচেয়েও বেশি কিছু করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি লিজ ট্রাসের (যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক মন্ত্রী) সঙ্গে কথা বলছি, যেকোনও ধরনের একটি চুক্তির চেষ্টা চলছে… আশা করি, কোনও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব। আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।

ট্রাম্পের বাণিজ্য প্রতিনিধি বলেন, আমাদের একটা সুবিধা রয়েছে। অনেক দেশের ভতুর্কির ওপর ঝোঁক বেশি, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য উভয় দেশের সরকারই বড় ভতুর্কিদাতা নয়। সুতরাং, আমরা যদি কোনও সমঝোতায় আসি, সেটা খুবই ভালো হবে।

এসময় হুইস্কি ও উলের ওপর শুল্কছাড় দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে আলোচনায় রয়েছি। দেখা যাক কাজ হয় কি না।

গরু ও মুরগির মাংস রফতানিতে ব্রিটিশ খাদ্যমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার শর্ত এবং মার্কিন ওষুধ সংস্থাগুলোকে সরকারের অর্থপ্রদান ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে লাইটাইজার জানান, এসব নিয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের কৃষি বাজারে প্রবেশে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সুবিধা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুই পক্ষেরই এ বিষয়ে কিছু করতে হবে। এগুলো জটিল বিষয়। তবে সমাধান হবে বলেই মনে হয়। আমরা সমঝোতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ কর্মকর্তা একটি বিষয় পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্রিটিশরা একই ধরনের প্রস্তাব অন্য দেশগুলোকে দিলে সেটি আর অতটা মহিমান্বিত থাকবে না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পরবর্তী চুক্তির বিষয়ে রবার্ট লাইটাইজার বলেন, সম্ভবত আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এর সমাধান হয়ে যাবে। এরপরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য তাৎক্ষণিক কোনও চুক্তি করতে না পারার কোনও কারণ নেই বলে মনে করি।

এছাড়া, মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর ডিজিটাল শুল্ক আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনায় ট্রাম্প প্রশাসন এখনও অনড় বলেও নিশ্চিত করেন এ কর্মকর্তা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন