সিলেটে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে রিকশা চলাচল - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০

সিলেটে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে রিকশা চলাচল

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
আপত্তি সত্ত্বেও সিলেটের ব্যস্ততম কোর্টপয়েন্ট-চৌহাট্টা সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে অনড় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নুতন বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকে এই সড়কে রিকশা, লেগুনা, ভ্যান ও হাতাগাড়ি চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে সিসিক।

ইতোমধ্যে এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড টানিয়ে এমন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। এছাড়া নগরে এ ব্যাপারে মাইকিং করেও প্রচারণা চলানো হচ্ছে।

যদিও রিকশা চালক ও মালিকদের পক্ষ থেকে নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এই সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ না করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত অমূলক। এতে রিকশা চালকরা জীবিকার সঙ্কটে পড়বেন। এবং নগরবাসীও দুর্ভোগে পড়বেন।  

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, মাত্রাতিরিক্ত রিকশার কারণে নগরে সবসময় যানজট লেগে থাকে। সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় কোর্ট পয়েন্ট-চৌহাট্টা সড়কে যানজট থাকে সবচেয়ে বেশি।

সিসিকের কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি এই সড়কটি সম্প্রসারণ করে সৌন্দর্যবর্ধণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সড়ক ও ফুটপাতের সব হকারদের সরিয়ে অন্যত্র পুণবার্সূন করা হচ্ছে। কোর্ট পয়েন্ট-চৌহাট্টা সড়কটিকে একটি মডেল সড়কে পরিণত করার কাজ চলছে। যেখানে যাত্রী ও পথচারীরা কোনো দুর্ভোগ পোহাবেন না। পর্যটকরাও মুগ্ধ হবেন।

এই সড়কটিকে সিলেটের একটি মডেল সড়কে পরিণত করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেটের দীর্ঘদিনের নাগরিক দাবি ফুটপাত হকারমুক্ত করার কাজটি মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি আমরা। নগরবাসি ফুটপাতে নির্বিঘ্নে হাটা অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

সিসিক মেয়র বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় নগরীর ব্যস্ততম এই সড়কে যানজট নিরসনের লক্ষে কোর্ট পয়েন্ট-জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা সড়কে রিকশা, ভ্যান, হাতাগাড়ি ও লেগুনা চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সড়কটিকে হকারমুক্ত করার পাশাপাশি যানজট মুক্ত রাখার এই উদ্দ্যোগও নগরবাসির সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

যানজট নিরসনে নেয়া সিসিকের এই সিদ্ধান্তের সিলেট মহানগর পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিসিক মেয়র।

তবে সিলেট জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াছিন খান বলেন, অযথা রিক্সার উপর দোষ চাপিয়ে যানজট সৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে। রিক্সার জন্য নগরীতে যানজট সৃষ্টি হয় না। সড়কে উভয় পাশে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়। অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা উচিত।

তিনি বলেন, সিলেট নগরে তেমন কোনো গণপরিবহন নেই। তাই রিকশাই নগরবাসীর ভরসা। প্রধান সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করলে নগরবাসী দুর্ভোগে পড়বেন। আর রিকশা চালকরাও জীবিকার সঙ্কট পড়বে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন