কমলগঞ্জে বিদ্যুতায়িত কিশোরীর অনিশ্চিত জীবন, দায় নিচ্ছেন না কেউ! - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

কমলগঞ্জে বিদ্যুতায়িত কিশোরীর অনিশ্চিত জীবন, দায় নিচ্ছেন না কেউ!

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
ভবনের গা ঘেঁষে 'হাই ভোল্টেজ' বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানা ছিল। এই ভবনের ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় কিশোরী মুন্নী বেগম (১৬)। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর ডান হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের খরচ হয়েছে লাখ লাখ টাকা। পঙ্গুত্ব বরন করতে হয়েছে তাকে। এখন অনিশ্চিত জীবনে পা দিয়ে কিশোরী মুন্নী।

তবে ভবন ঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের উন্মুক্ত তারের জন্য মর্মান্তিক এ ঘটনার দায় নিচ্ছেন না কেউ।

গত ৪ জুলাই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে শিংরাউলী গ্রামে আবাসিক এলাকায় আব্দুল করিমের ভবনের ছাদে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহত কিশোরী পরিবারের সাথে ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। সে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামের প্রবাসী মোবারক আলীর মেয়ে। সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য মোবারক আলী শিংরাউলী গ্রামে বাসা ভাড়া নেন। কিশোরী মুন্নী বেগম স্থানীয় উসমানগড় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর কিশোরীর দুই হাত ও বুকে বড় ধরণের ক্ষত সৃষ্টি হয়। প্রথমে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইন্সটিটিউটে দীর্ঘদিন চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া এই কিশোরীকে প্রায় ৪ মাস চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বিদ্যুতায়িত মুন্নীর ডান হাতের অবস্থা ভালো না থাকায় চিকিৎসক হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলেন। এছাড়াও ভবনের ছাদে লোহার রডে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কিশোরীর বুকে মারাত্মক জখম হয়।

মুন্নী বেগম জানায়, ভবনের ছাদে কাপড় শুকাতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে। ভবনের সাথে বৈদ্যুতিক তারের লাইন রয়েছে। এজন্য দায়ী কারা বা কাদের ভুলের জন্য আমাকে পঙ্গু হতে হলো, তা আজও স্পষ্ট নয়।

কিশোরী মুন্নীর বাবা প্রবাসে থাকায় মামা মো. ইকবাল আহমদ বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসায় কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটির জীবন নষ্ট হয়েছে। তাদের পরিবার মানবেতর জীবন যাপন চলছে। ভবনের সাথে বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও এর দায় কার? আমরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। এজন্য আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুল করিমের ভবনের ছাদ ঘেষে শিংরাউলী এলাকায় মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রবাহিত। বিদ্যুৎ লাইন ঘেঁষেই নির্মিত হয়েছে ভবন। ভবন নির্মাণের পর বাসা ভাড়া প্রদান করা হয়। তবে ভবনের সাথে উন্মুক্ত বিদ্যুৎ লাইন থাকলেও এটি নিয়ে ভবন মালিক কিংবা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কেউ গুরুত্ব মনে করেনি।

তবে ঘটনার পরদিন ভবন মালিক আব্দুল করিম বিদ্যুৎ লাইনের জন্য মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দায়ী করে কমলগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে লিখিত অভিযোগ দেন।

ভবনের মালিক আব্দুল করিম বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ঠিকাদার পার্শ্ববর্তী একটি বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের সময় কাভার লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ নিবেন প্রতিশ্রুতি দিলেও তা দেননি। ফলে তাদের ভুলের জন্যই এঘটনা ঘটে।’

এ ব্যাপারে তদন্তকারী মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শ্রীমঙ্গলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) খালেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের এই লাইন দীর্ঘদিনের। বিদ্যুৎ লাইনের পরে ভবন নির্মিত হয়েছে। সর্বশেষ পার্শ্ববর্তী বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে নতুন খুঁটি বসানোর কারণে কিছুটা ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে। তবে কিশোরীর অসাবধানতাবশত হয়তো কাপড় ছোড়ে মারায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন