‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’

২০০৯ সালে নির্মিত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
১৯৭১ সালে বছরব্যাপী পাকিস্তান সেনাবাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। পরিকল্পিতভাবে ১৪ ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশীসংখ্যক বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এই দিনকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ ঘোষণা করেন। বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ’ (১৯৯৪) থেকে জানা যায়, ২৩২ জন বুদ্ধিজীবী নিহত হয়েছেন। তবে তালিকায় অসম্পূর্ণতার কথাও একই গ্রন্থে স্বীকার করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের ১৮, মতান্তরে ২৯ তারিখে বেসরকারীভাবে গঠিত বুদ্ধিজীবী নিধন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এরপর “বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটি” গঠিত হয়। এই কমিটির প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, রাও ফরমান আলী এদেশের ২০,০০০ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু এই পরিকল্পনা মতো হত্যাযজ্ঞ চলেনি। কারণ ফরমান আলীর লক্ষ্য ছিল শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদেরকে গভর্নর হাউজে নিমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা। বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির প্রধান জহির রায়হান বলেছিলেন, ‘এরা নির্ভুলভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনষ্ক বুদ্ধিজীবীদেরকে বাছাই করে আঘাত হেনেছে’। তবে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি জহির রায়হান নিখোঁজ হন।

১৯৭১ বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের উপর মেহেরপুরে নির্মিত একটি ভাস্কর্য



তাজউদ্দিন আহমেদ একটি তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেন ১৯৭১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর। কিন্ত, তার ঐ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পরিকল্পনাটি পূর্বেই করা হয় আর এতে সহায়তা করে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘ। এ হত্যাকাণ্ডে সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন ব্রি. জে. আসলাম, ক্যাপ্টেন তারেক, কর্ণেল তাজ, কর্ণেল তাহের, ভিসি প্রফেসর ডঃ সৈয়দ সাজ্জাদ হোসইন, ডঃ মোহর আলী, আল বদরের এবিএম খালেক মজুমদার, আশরাফুজ্জামান ও চৌধুরী মাইনুদ্দিন এদের নেতৃত্ব দেয় মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।

১৯৯৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনায় রমনা থানায় প্রথম মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ১৫)। সেখানে আলবদর বাহিনীর চৌধুরী মাইনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামানকে আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনের বোন ফরিদা বানু।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার মিরপুরে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। স্মৃতিসৌধটির স্থপতি মোস্তফা হালি কুদ্দুস। ১৯৯১ সালে ঢাকার রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নামে আরেকটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু হয় যা ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর নকশা করেন জামী-আল সাফী ও ফরিদউদ্দিন আহমেদ। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে একটি স্মারক ডাকটিকিটের সিরিজ প্রকাশ করেছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একাংশ 


২৫শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী পাকবাহিনীর হাতে প্রাণ হারান। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (দর্শনশাস্ত্র)
ড. মুনীর চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)
ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (বাংলা সাহিত্য)
ড. আনোয়ার পাশা (বাংলা সাহিত্য)
ড. আবুল খায়ের (ইতিহাস)
ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা (ইংরেজি সাহিত্য)
ড. সিরাজুল হক খান (শিক্ষা)
ড. এ এন এম ফাইজুল মাহী (শিক্ষা)
হুমায়ূন কবীর (ইংরেজি সাহিত্য)
রাশিদুল হাসান (ইংরেজি সাহিত্য)
সাজিদুল হাসান (পদার্থবিদ্যা)
ফজলুর রহমান খান (মৃত্তিকা বিজ্ঞান)
এন এম মনিরুজ্জামান (পরিসংখ্যান)
এ মুকতাদির (ভূ-বিদ্যা)
শরাফত আলী (গণিত)
এ আর কে খাদেম (পদার্থবিদ্যা)
অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য (ফলিত পদার্থবিদ্যা)
এম এ সাদেক (শিক্ষা)
এম সাদত আলী (শিক্ষা)
সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য (ইতিহাস)
গিয়াসউদ্দিন আহমদ (ইতিহাস)
রাশীদুল হাসান (ইংরেজি)
এম মর্তুজা (চিকিৎসক)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
ড. হবিবুর রহমান (গণিত বিভাগ)
ড. শ্রী সুখারঞ্জন সমাদ্দার (সংস্কৃত)
মীর আবদুল কাইউম (মনোবিজ্ঞান)
চিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ)
অধ্যাপক ডা. আব্দুল আলিম চৌধুরী (চক্ষু বিশেষজ্ঞ)
অধ্যাপক ডা. শামসুদ্দীন আহমেদ
ডা. হুমায়ুন কবীর
ডা. আজহারুল হক
ডা. সোলায়মান খান
ডা. আয়েশা বদেরা চৌধুরী
ডা. কসির উদ্দিন তালুকদার
ডা. মনসুর আলী
ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা
ডা. মফিজউদ্দীন খান
ডা. জাহাঙ্গীর
ডা. নুরুল ইমাম
ডা. এস কে লালা
ডা. হেমচন্দ্র বসাক
ডা. ওবায়দুল হক
ডা. আসাদুল হক
ডা. মোসাব্বের আহমেদ
ডা. আজহারুল হক (সহকারী সার্জন)
ডা. মোহাম্মদ শফী (দন্ত চিকিৎসক)
অন্যান্য
শহীদুল্লাহ কায়সার (সাংবাদিক)
নিজামুদ্দীন আহমেদ (সাংবাদিক)
সেলিনা পারভীন (সাংবাদিক)
সিরাজুদ্দীন হোসেন (সাংবাদিক)
আ ন ম গোলাম মুস্তফা (সাংবাদিক)
আলতাফ মাহমুদ (গীতিকার ও সুরকার)
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত (রাজনীতিবিদ)
রণদাপ্রসাদ সাহা (সমাজসেবক এবং দানবীর)
যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (শিক্ষাবিদ, আয়ুর্বেদিকচিকিৎসক)
জহির রায়হান (লেখক, চলচ্চিত্রকার)
মেহেরুন্নেসা (কবি)
ড. আবুল কালাম আজাদ (শিক্ষাবিদ, গণিতজ্ঞ)
নজমুল হক সরকার (আইনজীবী)
নূতন চন্দ্র সিংহ (সমাজসেবক, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক)

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন