কল্যাণপুর বস্তি পরিদর্শনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২০

কল্যাণপুর বস্তি পরিদর্শনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তিতে (পোড়া বস্তি) ইউনিলিভার বাংলাদেশের সহায়তায় নির্মিত ওয়াশ সেন্টার এবং ব্র্যাকের বিভিন্ন কোভিড-১৯ বিষয়ক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেদার লেলে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সরেজমিন এই পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

কল্যাণপুর বস্তিতে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। তারা সবাই অতি দারিদ্র্যের মাঝে জীবনযাপন করেন। প্রতি পরিবারের গড় আয় মাত্র ৩,৭২৫ টাকা। এখানে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ পানির চরম সঙ্কট রয়েছে।

এ অবস্থার উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে করোনা মহামারী সংক্রমণের কিছুদিন আগেই ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) এবং পাবলিক স্যানিটেশন সেবার নকশায়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষ নবীন সামাজিক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ভূমিজ, গত ১৪ মার্চ যৌথভাবে রাজধানীর কল্যাণপুর বস্তিতে একটি কমিউনিটি টয়লেট (শৌচাগার) নির্মাণ করে।

এতে মোট ৬টি টয়লেট রয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা আলাদা করে ৩টি টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে উন্নত মানের হাত ধোয়ার জায়গা, বিশুদ্ধ পানির সুব্যবস্থা (পিওরইট) এবং ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে কাপড় পরিষ্কারের সুব্যবস্থা রয়েছে। কল্যাণপুর বস্তির অধিবাসীদের সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ঘটানোই এই ওয়াশ সেন্টারটির লক্ষ্য।

পাশাপাশি এই যৌথ অংশীদারিত্ব, নবীন সংগঠন ভূমিজকে তাদের উদ্ভাবিত টেকসই ওয়াশ বিজনেস মডেলের উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়তা করছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার ডিকসন, ইউবিএল চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক সরেজমিনে ওয়াশ সেন্টারটি ঘুরে দেখেন এবং বস্তির অধিবাসীদের মুখ থেকে ওয়াশ সেন্টার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শোনেন। তারা বস্তির ঘরগুলো ঘুরে দেখেন এবং অধিবাসীদের সাথে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করেন যে, ইউনিলিভারের ওয়াশ সেন্টার এবং ব্র্যাকের কোভিড-১৯ কার্যক্রম বস্তির অধিবাসীদের আসলে কতটা কাজে দিচ্ছে।

ভূমিজের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা রশিদ পরিদর্শকদের সামনে ওয়াশ সেন্টারের বিজনেস মডেলটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।

পরিদর্শনের দ্বিতীয় অংশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার ডিকসনকে ব্র্যাক বাংলাদেশের ‘হাইজিন অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ কোয়ালিশন’ (এইচবিসিসি) প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে ইউনিলিভার এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (অফসিডিও) কর্তৃক এইচবিসিসি স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি তিনটি ধাপে – ইউনিলিভারের পরিক্ষিত এবং প্রমাণিত হাইজিন ইন্টারভেন্সন, আচরণ পরিবর্তন প্রোগ্রাম এবং ডিজিটাল সমাধানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইনটারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) এবং বাংলাদেশের জাতিসংঘের হাই কমিশন শরণার্থী (ইউএনএইচসিআর) চারটি সংস্থা এই জোটের অধীনে অংশ নিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন