কমলগঞ্জে তরুণী হত্যা, নারী নির্যাতন মামলার ভয়ে প্রেমিকাকে খুন - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০

কমলগঞ্জে তরুণী হত্যা, নারী নির্যাতন মামলার ভয়ে প্রেমিকাকে খুন

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমিকাকে হত্যা করে সম্পর্কের ইতি টানলেন প্রেমিক দীপেশ ওরাং। গত বৃহস্পতিবার চা বাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত ঘাতক প্রেমিক দীপেশ ওরাংকে আটক করেছে পুলিশ। 

শনিবার রাতে রেশমা আক্তারের ছোট ভাই রহমত আলী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। একই রাতে ঘাতক প্রেমিক সিএনজি চালক দীপেশ ওরাংকে সুনছড়া চা বাগান বাজার থেকে আটক করা হয়। তিনি সুনছড়া চা বাগানের মারাং ওরাং এর ছেলে। রোববার বিকেল ৪ টায় তাকে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠালে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় দীপেশ। ঘাতক প্রেমিকের জবানবন্দিতে জানা যায়, দীপেশ তার বন্ধুর বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে সুনছড়া চাবাগানে গেলে সেখানে পরিচয় হয় রেশমা আক্তার এর সাথে। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়৷ ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় এবং দীপেশকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় রেশমা। রেশমা তাকে বিয়ে না করলে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখায়। দীপেশ বিয়ের জন্য রাজি হয় এবং কিভাবে রেশমাকে হত্যা করা যায় তার নীল নকশার ছক আঁকে দীপেশ। 

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় পালিয়ে বিয়ের কথা বলে রেশমাকে তার বাড়ি থেকে বন্ধুর মোটরসাইকেল যোগে রাত ৯ টায় দেওড়াছড়া চা বাগানের ২৩ নং সেকশনের ১০/১৫ গজ ভিতরে গিয়ে তারা বসে। সেখানে দুজনে গল্পের ছলে রেশমা বসা অবস্থায় কৌশলে পিছনে গিয়ে পেন্টের পকেট থেকে রশি বের করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নরপশু দীপেশ। হত্যার পর রেশমার লাশ ফেলে রেখে চলে যায় সে। ঘটনার চারদিন পর বাগানের সেকশনে কাজ করতে আসা কিছু শ্রমিক অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, লাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে শনিবার সকালে লাশটি রেশমার বলে নিশ্চিত করে তার পরিবার। শনিবার রাতেই ঘটনার মূল আসামি দীপেশকে আটক করে তার জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যার আলামত উদ্ধার করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন