আকবরকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য কাটছে না - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০

আকবরকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য কাটছে না

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
রায়হান হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুলিশের বহিস্কৃত উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে রহস্য কাটছে না।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্ম ফরিদ উদ্দিন বলছেন, সোমবার সকালে ভারতে পালানোর সময় কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তা্র করে পুলিশ।

তবে আকবরকে আটকের পর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরমধ্যে আলোচনায় এসেছেন রহিম উদ্দিন নামের কানাইঘাটের এক বাসিন্দা। তিনিই আকবরকে সীমান্তের ওপার থেকে ধরে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বলে জানাগেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকেও এমনটি জানানো হয়েছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে আকবরকে আটকের আরেকটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রহিম উদ্দিনকেও দেখা যায়।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রহিম উদ্দিনসহ কয়েকজন গাছপালা ঘেরা একটি পাহাড়ি ছড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। ওই ভিডিওতে আকবরকে দেখা না গেলেও তার কন্ঠস্বর শোনা যায়।  

ভিডিওর প্রথমেই আকবরকে কান্নাড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়-, 'ভাই আমি হাসপাতালে পাঠাইছি ভাই', 'ভাই আমার ধর্মের ভাই'।

এসময় বিভিন্ন জন আবরকে আটকের ভিডিও করতে আগ্রহী হলে রহিমকে বলতে শোনা যায়- 'বেজান নেটে দেও'।

এরপর আবার আকবর বলেন, 'আমি মারি নাই। আমি হাসপাতালে পাঠাইছি'।

এসময় রহিম উদ্দিনের পাশে থাকা একজন মোবাইল ফোনে কাউকে কল দেন। এরপর ফোন তুলে দেন রহিম উদ্দিনের হাতে।
 
ফোনে রহিম উদ্দিন বলেন, 'ওসি স্যাররে কও আমি পাইছি, আমি লগে লগে আছি ওখন'।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহিম উদ্দিন লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ডোনা সীমান্ত এলাকার মৃত তরফ আলীর পুত্র। আকবরকে খাসিয়াদের কাছ থেকে নিয়ে এসে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। তবে জেলা পুলিশের কৌশলী বিভিন্ন উদ্যোগের কারণেই দ্রুততম সময়ে আকবরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, মঙ্গলবার আকবরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই।

রায়হান হত্যার দুদিন পর আকবর স্থানীয় এক সাংবাদিকদের সহযোগিতায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ দিয়ে ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছিলো বিভিন্ন সূত্র। স্থানীয় এক সাংবাদিক ও এক দালালের সহযোগিতায় তিনি ভারতে পালান বলে জানায় গোয়েন্দা সূত্র। ইতোমধ্যে সেই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর আকবরকে পালাতে সহায়তাকারী সাংবাদিক নোমান আহমদ পলাতক রয়েছেন।

গত ১০ অক্টোবর শনিবার মধ্যরাতে রায়হানকে নগরীর কাষ্টঘর থেকে ধরে আনে বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন ১১ অক্টোবর ভোরে ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হানের পরিবারের অভিযোগ, ফাঁড়িতে ধরে এনে রাতভর নির্যাতনের ফলে রায়হান মারা যান। ১১ অক্টোবর রাতেই রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

এ ঘটনায় আকবর ছাড়া আরও তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাদের রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসবাদ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন