৭ নভেম্বরের মত আজো দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে : বিএনপি - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

৭ নভেম্বরের মত আজো দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে : বিএনপি

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। ৭ নভেম্বরের উত্তাল দিনগুলোর মতই আজো দেশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে দলের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ’৭৫ এর ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছিল। হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব। সেদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমেই রক্ষা পায় সদ্য অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। নস্যাৎ হয়ে যায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র। ক্যান্টনমেন্টের বন্দিদশা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে মুক্ত করে বিপ্লবী সিপাহীরা। তাদের বিপ্লবের মাধ্যমে আধিপত্যবাদ, একনায়কতন্ত্র ও একদলীয় শাসনের অবসান ঘটেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির তাঁবেদার একদলীয় সরকারের দুঃশাসনে দেশের মানুষ নির্যাতিত। গণতন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে নির্বাসনে। কেড়ে নেয়া হয়েছে মানুষের ভোটের অধিকার। সরকারি দল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড এক রকম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন-আদালত, গণমাধ্যম সবই সরকারের নিয়ন্ত্রণে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশের প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জাতীয় জীবনে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এ দিনে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৈনিক-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিলেন সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে প্রেরণার উৎস। ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তকে রুখে দেয়ার জন্য অকুতোভয় সিপাহী-জনতা এক ইস্পাত কঠিন ঐক্যে শপথবদ্ধ হয়ে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব সংগঠিত করেন। এই ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনাকে ধারণ করে গণজাগরণ সৃষ্টির মাধ্যমে বর্তমানে অগণতান্ত্রিক সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমে আসতে হবে।’

ডা. শাহাদাত বলেন, ‘বর্তমানে আবারও বিদেশি শক্তির ক্রীড়নক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতাকে জোর করে আঁকড়ে ধরেছে। সরকারের নতজানু নীতির কারণেই দেশের সার্বভৌমত্ব দিনের পর দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে। একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনে দেশের গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘বর্তমান গণতন্ত্রের লেবাসে দেশে আধিপত্যবাদী শক্তির তাঁবেদারেরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। সরকার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে বিরোধী দলের ওপর চালাচ্ছে দমন-পীড়ন। লাখ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় জেলে ঢুকিয়ে সরকার সারাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। মিডিয়ার ওপরও চলছে দমন-নির্যাতন। দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশ আজ নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জালে
জড়িয়ে পড়েছে। এ সুযোগে সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা চরম দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতির হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতিসহ আতঙ্কজনক অবস্থায় দেশের মানুষ এখন মুক্তির জন্য নতুন এক বিপ্লবের প্রহর গুনছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। জিয়াউর রহমানকে যখন বন্দি করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে, তখনই সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সৈনিকরা জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে নাজুক পরিস্থিতিতে দেশের হাল ধরার অনুরোধ করেন। সেদিন জিয়াউর রহমান দেশের হাল না ধরলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তো। দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র বলে কিছু থাকতো না। জিয়াউর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে আজ দেশ উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তার নেয়া বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশ আজো এগিয়ে যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক ইয়াসিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মিয়া ভোলা, সামশুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, হারুন জামান, মাহবুবুল আলম, শফিকুর রহমান স্বপন, ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, জাহিদুল করিম কচি, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম-সম্পাদক শাহ আলম, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আবুল হাসেম, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম চৌধুরী মনজু, মো. কামরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, মো. সালাউদ্দিন, মাহাবুবুল হক, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মুবিন প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন