মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান

মৌলভীবাজারের দর্শনীয় স্থান
সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের অন্তর্গত ঐতিহ্য মন্ডিত জেলা। পর্যটন শিল্পের জন্যে গুরুত্বপূর্ন এই জেলা বাংলাদেশের সভ্যতা, ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে অবদান অনেক। বৈচিত্রময় চারপাশে, দৃষ্টি নন্দন চা বাগান, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আপন মহিমায় এই জেলা অন্যে জায়গা থেকে ভিন্ন।

মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে অনেক পর্যটক আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্থান ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন জাগায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ, ৯২ টি চা বাগান, চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট, পৃথিমপাশা নবাববাড়ী, মনু ব্যারেজ, মাধবপুর চা-বাগান লেক, মনিপুরী পল্লী, কমলা,লেবু,আনারস বাগান, পাহাড়, টিলা, হাওড় ও বিলের সমাহার।
মৌলভীবাজারের উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহঃ
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল (আংশিক) উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান অবস্থিত। বাংলাদেশের যে ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যান আছে তার মধ্যে লাউয়াছড়া অন্যতম। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। ১২৫০ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট এ উদ্যানটিকে প্রাকৃতিক জাদুঘর বললেও কম হবে। বিভিন্ন প্রকার গাছগাছালি ও পশুপাখি এ বনের শোভা আরো বৃদ্ধি করেছে। জীব বৈচিত্রে ভরপুর নান্দনিক সৌন্দর্যের অন্যতম স্থান এই জাতীয় উদ্যানটি দেশে ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত। লাউয়াছড়া উদ্যান মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান

মাধবপুর লেক
মাধবপুর লেক
মাধবপুর লেক (Madhabpur Lake) বা হ্রদটি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে থেকে মাধবপুর লেকের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে চা বাগানের টিলায় বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে এই লেক তৈরী করা হয়। প্রায় ৫০ একর আয়তনের মাধবপুর হ্রদের দৈর্ঘ্য ৩ কিলোমিটার এবং স্থান বিশেষে প্রস্থ ৫০ থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত। মাধবপুর লেককে ঘিরে রয়েছে ছোট বড় পাহাড় ও টিলা। আর টিলায় রয়েছে সুদৃশ্য চা বাগান। ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন মাধবপুর চা বাগানের ১১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত মাধবপুর লেকের শোভা বাড়ায় সাদা ও নীল পদ্ম ফুল। শীতকালে এই লেকে অনেক অতিথি পাখিরও আগমন ঘটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং চা বাগানের ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে মাধবপুর লেকে সকাল ৮টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভ্রমণকারীদের অবস্থান করতে দেয়া হয়। মাধবপুর লেক ঘুরে হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন ৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ দেখতে।

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত
মাধবকুন্ড জলপ্রপাত (Madhabkunda Waterfall) মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত। কিছু বছর আগেও মাধবকুন্ড ছিল বাংলাদেশের জলপ্রপাত প্রেমী পর্যটকদের কাছে একমাত্র আকর্ষন। বর্তমানে বাংলাদেশে আরো বেশ কিছু ঝর্ণা আবিষ্কৃত হয়েছে। তবু পর্যটকদের কাছে মাধবকুন্ড ঝর্ণার আবেদন একটুও কমেনি তাই সরকারী উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট আর সম্পূর্ন এলাকাকে নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মাধবকুন্ড ইকোপার্ক। অনিন্দ্য সুন্দর এ জলপ্রপাত প্রায় ১৬২ ফুট উঁচু আর মাধবকুন্ড ঝর্ণা থেকে ১৫-২০ মিনিট হাটলে পরিকুন্ড ঝর্ণা নামে আরেকটি ঝর্ণা চোখে পড়ে। এছাড়া এখানে আছে দিগন্তজোড়া চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, কমলা, লেবু, সুপারী ও পানের বাগান আবার কোথাও কোথাও জুম চাষেরও দেখা মিলবে

চা-বাগান
চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী বলা যেতে পারে। মৌলভীবাজার জেলায় ৯২ টির মত চা বাগান রয়েছে। ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানের নজরকাড়া সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক আসেন। মাইলের পর মাইল পর্যন্ত চা বাগান দেখে পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত মানের চা শ্রীমঙ্গলেই উৎপন্ন হয়ে। শ্রীমঙ্গলের প্রবেশ পথে ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য দৃষ্টি কেড়ে নেবে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসণের তৈরি এ ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে সাতগাঁও চা-বাগানের সহায়তায়। ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্যের সামনে থেকেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে সাতগাঁও চা-বাগান। ইংরেজদের শাসনকালের স্মৃতি বহনকারী সিলেটের চা বাগানগুলোতে সেই সময়ের মতো কাঠের তৈরি সাদা রঙের ভবনে ম্যানেজারেরা বাস করেন। আর তাই চা বাগানের জীবন যাত্রাতেও ইংরেজ আমলের অনেক ছাপ লক্ষ করা যায়।

পরিকুন্ড জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত পরিকুন্ড জলপ্রপাত (Parikunda Waterfall) অনেকের কাছেই অপরিচিত একটি নাম। অনন্য সুন্দর বিস্ময়কর এই জলপ্রপাত মাধবকুন্ড ঝর্ণা থেকে মাত্র ১০/১৫ মিনিটের পায়ে হাটা দূরত্বে অবস্থিত। গভীর বন ও প্রচারণা না থাকায় ১৫০ ফুট উচু খাড়া পাহাড় হতে নেমে আসা পানির ধারা দেখতে খুব বেশি পর্যটকের চলাচল নেই। তবে অপ্রচলিত এই জলপ্রপাতের বুনো সৌন্দর্যের কোন কমতি নেই। চারপাশে ঘন সবুজ বৃক্ষঘেরা ঝর্ণার জলের ধারা ছোট বড় পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলার সময় যে শব্দের সৃষ্টি হয় তা মনকে তৃপ্ত করে দারুণ অপার্থিবতায়। আর শীতল জলের ধারায় গা ভিজিয়ে নেয়ারও এখানে কোন বাধা নেই। প্রকৃতির নৈসর্গিক নিরবতায় জলপ্রপাতের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পরিকুন্ড জলপ্রপাত অনন্য এক স্থান। কখন যাবেন: বর্ষাকাল পরিকুন্ড ঝর্ণা দেখতে যাওয়ার আদর্শ সময়। এসময় ঝর্ণার পূর্ণ সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়।

বাইক্কা বিল
শ্রীমঙ্গলে অবস্থতি বাইক্কা বিল হাইল হাওরের প্রাণ। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখি ও মাছের অভয়াশ্রম। এক সময় শুধু শীত কালে এখানে অতিথি পাখি আসতো কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বাইক্কা বিল পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। বার মাসই সেখানে পাখি দেখা য়ায়। শুধু পাখি নয় এখানে রয়েছে বড় বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ তাও সম্ভব হয়েছে এখানে মাছের স্থায়ী আভয়াশ্রম গড়ে তোলায়। সেখানে পাখি দেখার জন্য নির্মিত হয়েছে একটি র্পযটন টাওয়ার। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন টাওয়ার। এ টাওয়ারটি নির্মান করা হয়েছে শুধু মাত্র পাখি দেখার জন্য। টাওয়ারটি ৩তলা বিশিষ্ট। প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে ১টি করে শক্তিশালী বাইনোকোলার।  
কিভাবে যাওয়া যায়: ঢাকা থেকে ট্রেনে কিংবা বাসে শ্রীমঙ্গল আসা যাবে। শ্রীমঙ্গল থেকে নেমে সিএনজি, অটোরিক্সা কিংবা মাইক্রোবাস চড়ে বাইক্কা বিল ঘুরে আসা যায়।

হাইল হাওর
সিলেট বিভাগের মৌলভিবাজার জেলা সদর, শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত একটি বৃহদাকার জলাভূমির নাম হাইল হাওর (Hail Haor)। ১৪ টি বিল ঘেরা হাইল হাওরের সর্বমোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর। প্রচুর লতা ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থাকার কারণে স্থানীয়দের কাছে এটি লতাপাতার হাওর নামেও পরিচিত। হাওরের চিরায়ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নীল আকাশ ও পানির মিতালী যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির বাস্তব রূপ। সেকারণে হাওড়ের বুকে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে সারাদেশের ভ্রমণকারীরা এই ভূস্বর্গে ছুটে আসেন। হাইল হাওরের অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্রেরও কোন ঘাটতি নেই। এই হাওরে প্রায় ৯৮ প্রজাতির মাছ ও প্রায় ১৬০ প্রজাতির পাখির বিচরণ লক্ষ করা যায়। হাইল হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়: সাধারণত বর্ষাকাল হাওরাঞ্চল ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে যদি নানা প্রজাতির হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখর হতে চান তাহলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে হাইল হাওর ভ্রমণ করতে পারেন।

হাকালুকি হাওর
হাকালুকি হাওর (Hakalui Haor) সিলেট ও মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানির জলাভূমি। হাকালুকি হাওর প্রায় ২৩৮ টি বিল ও ১০ টি নদীর সমন্বয়ে গঠিত এবং বর্ষাকালে এই হাওরের আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার হেক্টর। মাছের জন্য প্রসিদ্ধ হাকালুকি হাওরে শীতকালে অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও এখানে প্রায় ১০০ প্রজাতির স্থানীয় পাখি দেখা মিলে। হাওরের বিস্তির্ন ভূমি, বিল নির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা এবং অথিতি পাখির আহ্বানে ভ্রমনপিয়াসীরা হাকালুকি হাওরে ছুটে আসে। হাকালুকি হাওর ভ্রমণের সময় অতিথি পাখি দেখতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস হচ্ছে হাকালুকি হাওর ভ্রমণের আদর্শ সময়। এ সময় হাওরের চারপাশ অতিথি পাখির কোলাহলে মুখর হয়ে থাকে। আর বর্ষাকালে হাওর সমুদ্রের রূপ ধারণ করে। তাই বর্ষাকালে হাওরের মজা নিতে চাইলে জুন-আগস্ট এই সময় আসতে হবে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ (Bir Shrestho Hamidur Rahman Monument) অবস্থিত। ঝিনাইদহে জন্ম নেয়া বীর সন্তান হামিদুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাহসী সিপাহী ছিলেন। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হামিদুর রহমান সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকায় যুদ্ধ করছিলেন। ২৮ অক্টোবর সকালে দলের অধিনায়কের নির্দেশে হামিদুর রহমান ধলই বিওপি-তে পাকিস্থানীদের ঘাটি দখলের জন্য অগ্রসর হন। হালকা একটি মেশিনগান নিয়ে জীবন বাজি রেখে হামিদুর রহমান একাই দুইটি পাকিস্থানি যুদ্ধ ট্যাঙ্ক ধ্বংস করেন। এতে শত্রুঘাটির অধিনায়ক এবং বেশ কয়েকজন সৈন্য নিহত হয়। একসময় যুদ্ধরত অবস্থায় এই বীর সন্তান শত্রুদের পাল্টা আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর আত্নত্যাগের কয়েকদিনের মধ্যেই ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। সহযোদ্ধারা হামিদুর রহমানের মৃতদেহ সীমান্তের ওপারে নিয়ে ভারতের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৫ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রাম থেকে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁর দেহাবশেষ সমাহিত করা হয়। অসীম সাহসিকতার জন্য সিপাহী হামিদুর রহমানকে মরণোত্তর বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এই মহান বীরের প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রীমঙ্গলের থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে ধলই চা বাগানের একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। আর ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের গ্রামে কলেজ মাঠে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ হামিদুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর ২৮ অক্টোবর হামিদুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মৌলভীবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থী এই বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিসৌধতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন।
চা যাদুঘর
চা বাগানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে টি বোর্ডের উদ্যোগে ২০০৯ সালে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা রিসোর্ট ও জাদুঘর (Sreemongol Tea Resort And Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং চা চাষ সম্পর্কিত সমস্ত খুঁটিনাটি তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চা গবেষণা কেন্দ্রের কাছে চারটি কক্ষে ৪৪ টির অধিক সংগ্রহ ও স্মারকের মাধ্যমেসাজানো হয়েছে এই চা জাদুঘরকে। চা জাদুঘরের পাশে মনোমুগ্ধকর টি রিসোর্টের অবস্থান। মূলত পুরানো একটি বৃটিশ বাংলোকে আধুনিক রিসোর্টের রূপ দেয়া হয়েছে। চোখ জুড়ানো সবুজ চা বাগানে ঘেরা এই জাদুঘরে ব্রিটিশ শাসনামলে চা বাগানে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ব্রিটিশ বাংলোয় ব্যবহৃত শতাধিক আসবাপত্র, চা প্রসেসিং যন্ত্রপাতি, চা বাগানের ম্যানেজার ও চা শ্রমিকদের ব্যবহৃত জিনিস, প্রাচীন রৌপ্য ও তাম্য মুদ্রাসহ বিভিন্ন প্রাচীন নিদর্শন স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের স্মৃতি বিজড়িত একটি কক্ষ এই চা জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ। ১৯৫৭-৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্থান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে শ্রীমঙ্গলের নন্দবাড়ি চা বাগান পরিদর্শনে আসেন। তাঁর ব্যবহৃত চেয়ার ও টেবিল এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া রয়েছে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পরিহিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি বিশেষ প্রতিকৃতি, যা দেখে মুগ্ধতা ছুঁয়ে যায়। প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচী: চা জাদুঘর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে প্রবেশ টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ২০ টাকা।

হামহাম জলপ্রপাত
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গভীরে ২০১০ সালের শেষের দিকে পর্যটন গাইড শ্যামল দেববর্মাকে সাথে নিয় একদল পর্যটক হাম হামের এই অনিন্দ্য জলপ্রপাতটি আবিষ্কার করেন। স্থানীয়দের কাছে এই ঝর্ণা চিতা ঝর্ণা হিসাবে পরিচিত, তাদের মতে এই জঙ্গলে আগে চিতা পাওয়া যেত। প্রায় ১৪০ফিট উঁচু এই ঝর্ণার বুনো সৌন্দর্য দেখার জন্যে অনেক কষ্ট স্বীকার করে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসে। শীতকালে তুলনামূলক পানি অনেক কম থাকে তাই বর্ষা কাল হাম হামের বুনো সৌন্দর্য্য দেখার উপযুক্ত সময়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন