সিলেট-চাঁদপুর রুটে ফের ট্রেন চালুর উদ্যোগ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০

সিলেট-চাঁদপুর রুটে ফের ট্রেন চালুর উদ্যোগ

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
ব্রিটিশ আমলে তত্কালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে সিলেট-চাঁদপুর রুটে একটি ট্রেন চলাচল করত। মেঘনা নামের ওই ট্রেনটি দিয়ে আসাম থেকে চা ও অন্যান্য পণ্য যেত চাঁদপুরে। সেখান থেকে পণ্যগুলো নৌপথে কলকাতা বন্দর হয়ে পৌঁছত ব্রিটেনে। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর কালের পরিক্রমায় রেলের ওই রুটটি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি পুরনো সেই রেল রুট ফের সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সিলেটে কর্মরত চাঁদপুর ও বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে এ রুটে নতুন এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর রুটটিতে নতুন একটি ট্রেনের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতামত তৈরি করছে রেলওয়ে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা নতুন রেক দিয়ে ট্রেনটি চলতি বছরের মধ্যে চালু করা হতে পারে।

বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের মানুষ একসময় সিলেট-চাঁদপুর রুটের ট্রেন দিয়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও ভোলায় যাতায়াত করত। পরবর্তী সময়ে রুটটি বন্ধ হয়ে গেলেও ‘মেঘনা’ নামটি ঠিক রেখে ট্রেনটি চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে দেয়া হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে প্রতিদিন এক জোড়া ট্রেন চলাচল করে। ফলে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার মানুষ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও ভোলায় যেতে বিড়ম্বনায় পড়ে। এ রুটের যাত্রীরা ঢাকা হয়ে বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। নতুন প্রস্তাবিত ট্রেন সার্ভিসটি চালু হলে কয়েক লাখ যাত্রী এ পথে যাতায়াতের সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন রেলওয়ে-সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পুরনো সিলেট-চাঁদপুর রুটটি ফের চালু করতে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কয়েক দফায় তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে মতামত প্রদানে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাস্তবায়নকারী বিভাগ থেকে চূড়ান্ত মতামত না আসায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ও নতুন ট্রেন সার্ভিসটি চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছে না।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা) উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি দেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে দেয়া ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সিলেট বিভাগীয় শহরে কুমিল্লা জেলার প্রায় ৫০ হাজার ও চাঁদপুর জেলার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত। সিলেট অঞ্চলের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও চাঁদপুর-কুমিল্লার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সিলেট থেকে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলায় প্রতিদিন মোট ৩০টি বাস চলাচল করে। এ বাসগুলোর সেবার মান খুবই নিম্ন। সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে বৃহত্তর কুমিল্লার অধিবাসীদের জন্য স্বল্পসংখ্যক সিট বরাদ্দ রয়েছে, যা সিলেট বিভাগে বসবাসরত জনসংখ্যার তুলনায় খুবই কম। লক্ষ্মীপুর জেলার অধিকাংশ মানুষ চাঁদপুর হয়ে সিলেট যাতায়াত করে। চাঁদপুর থেকে সিলেটে রেল চলাচল শুরু হলে বৃহত্তর কুমিল্লাসহ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার মানুষ এ পথে সিলেট যাতায়াত করবে।’

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ইতোপূর্বে সিলেট হতে চাঁদপুর রেলপথে মেঘনা নামে ১টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষাক্রমে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার জনসাধারণের সিলেট আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে সিলেট-চাঁদপুর রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির পর ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে সিলেট-চাঁদপুর রুটে একটি নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য জরুরি চিঠি দেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. সৈয়দা ওনশীন পর্ণীনি। ট্রেন সার্ভিসটি চালু করতে জরুরি মতামতের জন্য ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) চিঠি দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপপরিচালক/ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশন মো. খায়রুল কবির। জিএমকে দেয়া ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম), প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (সিওপিএস) ও প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলীকে (সিএমই)। কিন্তু একাধিকবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সিলেট-চাঁদপুর রুটে নতুন একটি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর জন্য ওই চিঠি দেন।

এদিকে গুরুত্ব বিবেচনায় সরকারের বিশেষ আগ্রহ সত্ত্বেও এ বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে কোনো মতামত না আসায় গত ৯ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালকের কাছে নতুন করে তাগাদাও দেয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব খোন্দকার মো. নাজমুল হুদা শামিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দ্বিতীয় দফায় মতামত চাওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিশেষ নির্দেশনা থাকায় সিলেট-চাঁদপুর রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হতে বাধা নেই। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনো মতামত চাওয়া হলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে মতামত দেব। বিষয়টি রেলের পরিবহন বিভাগ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় ট্রেনটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলেই রেলওয়ের সবচেয়ে পুরনো এ রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেলভবন থেকে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে কোনো মতামত চাওয়া হলে সেটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) যাচাই-বাছাই করবেন। তবে সদ্য বদলি হওয়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিওপিএস দপ্তর থেকে এ বিষয়ে মতামত দেয়া হয়নি। বর্তমানে পূর্বাঞ্চলের সিওপিএস বদলির কারণে শূন্য থাকায় প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) নাজমুল ইসলাম চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত আগের সিওপিএসের দীর্ঘসূত্রতায় সরকারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সিলেট-চাঁদপুর রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন