মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনের ২ হাজার একর জমি ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনের ২ হাজার একর জমি ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলায় হারারগজ সংরক্ষিত বন। এই বনে প্রাকৃতিক বেত ও বাঁশবাগানের পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ।  সংরক্ষিত এই বনটি ইতিমধ্যে নানা কারণে ধুকছে অস্তিত্ব রক্ষার্থে। এরই মধ্যে একটি মহল এই বনের জমি ইজারা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে কিছু সরকারী কর্মকর্তাও জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ত্রুটিপূর্ণ ভূমি জরিপের মাধ্যমে হারারগজ বনের মধ্য অংশের ২১৭৪.৩৫ একর ভূমিকে খাস জমি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী শিল্প গোষ্টিকে  চা বাগান সম্প্রাসারণের জন্য ইজারা প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভুল জরিপের পর বন বিভাগের আপত্তি এবং একটি তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ আমলে না নিয়ে তড়িঘড়ি করেই এই ভূমি ‘খাস’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, ২০১৩ সালে ভুল জরিপের মাধ্যমে এই বনের জায়গাকে জেলা প্রশাসনের “খাস” খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এর শ্রেণি পরিবর্তন করে বনভূমির পরিবর্তে লেখা হয় “টিলা রকম ভূমি”। সেসময় এর বিরুদ্ধে বনবিভাগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠায়। এ নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও এরই মধ্যে একটি চা বাগানকে মামলা নিস্পত্তি সাপেক্ষে বনের সে ভুমি ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে।
 
ত্রুটিপূর্ণ ভূমি জরিপ এবং তা সংশোধনে ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বনবিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের মধ্যেই বেশ কিছু কোম্পানি এই ২১৭৪.৩৫ একর ভূমি ইজারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি বাণিজ্যিক চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে ইজারা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি চিটি ভূমি মন্ত্রনালয়ে গেলে সেখানে বনবিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে নিজেদের জায়গা ফিরে পেতে এবং কোন চা বাগানকে লিজ দিতে আপত্তি জানায় বনবিভাগ। সে বৈঠকে উপস্থিত থাকা সিলেট বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক এসএম সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে কিছু স্থানীয় সরকারী কর্মকর্তার অতি উতসাহে এবং উপর মহলে ভুল তথ্য দিয়ে এই ইজারার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ১৯২১ সালের ২৪ অক্টোবর তৎকালীন আসাম প্রদেশের সিলেট জেলার অজরিপকৃত ১২০১৯ একর বনভূমিকে ‘হারারগজ রিজার্ভ ফরেস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আসাম ফরেস্ট রেগুলেশন ১৮৯১ এর অধীনে রিজার্ভ ফরেস্ট বা সংরক্ষিত বন ঘোষণার পর আরো কয়েকশ' একর জায়গা এ বনভূমির অধীনে সংরক্ষিত ঘোষণা করার ফলে ১৯৩৮ সাল নাগাদ এর অজরিপকৃত মোট বনভূমির পরিমাণ বেড়ে দাড়ায় ১২৭৬৮.৮০ একর।
তবে ১৯৩৩ সালে পার্শ্ববর্তী পৃথিমপাশা এস্টেটের দায়ের করা একটি স্বত্ত্ব মামলার রায়ে ১৯৩৭ সালে ১৯৮৭.৮৫ একর বনভূমি এই সংরক্ষিত বন থেকে খারিজ করে এস্টেটকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যদিও ১৯৫০ সালের প্রজাসত্ত্ব আইনে জমিদারি প্রথা বাতিলের পর ১৯৫৬ সালে এস্টেটের সকল ভূমি রাষ্ট্রায়ত্ব হয় এবং ১৯৬০ সালে এই ১৯৮৭.৮৫ একর জায়গাসহ মোট ৫৩৩৭ একর ভূমি বনবিভাগকে হস্তান্তর করা হয়।

তবে ১৯৩৮ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে খারিজ হওয়া ১৯৮৭.৮৫ একর বনভূমি আর সংরক্ষিত বনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে কোন নথি পাওয়া যায়না।

তবে এই ভূমিসহ এই অঞ্চলের সকল বনাঞ্চল প্রায় একশ বছর ধরে বন হিসেবেই রক্ষণাবেক্ষণ করছে বনবিভাগ।

২০১৩ সালে ডিজিটাল ভূমি জরিপের সময় বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত এই সংরক্ষিত বনের মধ্যবর্তী ২১৭৪.৩৫ একর ভূমি জেলা প্রশাসনের “খাস” খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এর শ্রেণি পরিবর্তন করে বনভূমির পরিবর্তে লেখা হয় “টিলা রকম ভূমি”।

এই জরিপে সংরক্ষিত বনের অজরিপকৃত ভূমির সঠিক পরিমাপ ১৩৬৪৮.০১ একর পাওয়া গেলেও জরিপে মাত্র ১১৪৭৩.৬৬ একর ভূমি রেকর্ডভূক্ত হয় বনবিভাগের নামে।

সেসময় এর প্রতিবাদে বনবিভাগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠায়।

সিলেট বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক এসএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সম্ভাব্য সকল ভুলই এই ডিজিটাল জরিপে হয়েছে। বনের সীমা অজরিপকৃত হলেও এর চৌহদ্দি নির্ধারিত ছিল, কিন্তু তারা তা বিবেচনা করেনি। তার উপর অসৎ উদ্দেশ্যে বনের মধ্যবর্তী ভূমিকে খাসভূমি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে টিলা রকম ভূমি উল্লেখ করেছে যাতে তা ইজারা দেয়া যেতে পারে’।

বিষয়টি সুরাহা করতে ২০১৪ সালে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. আব্দুল মান্নান এই সংরক্ষিত বন পরিদর্শন করেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে তিনি বনবিভাগের দাবির পক্ষে সম্মতি জানিয়ে উল্লেখ করেন যে ভূমি জরিপের বনের শ্রেণি ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই বনাঞ্চলে ১৯৩৩ সালের পৃথিমপাশা এস্টেটের মামলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা ১৯৮৭.৮৫ একর ভূমিই কেবলমাত্র খাসভূমি হিসেবে নথিভূক্ত করা যেতে পারে, বনের মধ্যবর্তী অংশ থেকে নয়।

তবে বনভূমি বা খাসভূমি—এই বনাঞ্চলের সকলই ভূমিকেই ইজারা দেয়া যাবে না মর্মে পরিষ্কার করে উল্লেখ করতে হবে বলেও প্রতিবেদনে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

একইসাথে তিনি সিলেট জোনাল সেটেলম্যান্ট অফিসকে এই ইচ্ছাকৃত ভুলের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

কিন্তু তার নির্দেশনার কোনটাই বাস্তবায়ন হয়নি, বরং এর মধ্যেই তড়িঘড়ি করেই এই ভূমি ‘খাস’ হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ হয়।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এই রেকর্ড সংশোধনের জন্য মৌলভীবাজার ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে জেলা প্রশাসন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও জুড়ী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে বনবিভাগ।

বনবিভাগ এবং পরিবেশ আন্দোলনে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় সরকারি কার্যালয়গুলোর কর্মকর্তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এই বনভূমি ইজারা দেয়ায় ব্যবস্থা করছেন যা এই বনাঞ্চলকেই ধ্বংস করে দিবে।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘বনের অংশ যদি চা-বাগান সম্প্রসারণ বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে ইজারা দেয়া হয়, তাহলে তা একসময় এই সংরক্ষিত বন এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ বনভূমিকে ধ্বংস করে দিবে’।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানায়, ২০১৩ সালের ডিজিটাল জরিপে সংরক্ষিত বনের এই ভূমি খাসভূমি হিসেবে রেকর্ডভূক্ত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তা ইজারা নেয়ার আগ্রহ দেখায়। জুড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোস্তাফিজুর রহমান রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি পক্ষ এই জমি ইজারা নিতে আবেদন করেছে।

এ দিকে সম্প্রতি দেশের প্রথম সারির একটি চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এই ভূমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা নিতে আগ্রহ পোষণ করে।

এবছর জানুয়ারির ২৯ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করলে এর প্রেক্ষিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ভূমি সচিব বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১৪ জসীম উদ্দীন হায়দার।

এ চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন- যেহেতু এ জমি নিয়ে একটি মামলা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মৌলভীবাজারে চলমান, তাই মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে মর্মে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুড়ী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি)-কে এই ভূমির পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হলে পরে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এই ভূমি পতিত, জনবসতিহীন এবং অনাবাদি হিসেবে উল্লেখ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় গত সেপ্টেম্বরের ৯ এবং ২৩ তারিখে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নিয়ে দুটি বৈঠকে বসে, তবে সে বৈঠকের রেজুলেশন প্রকাশ না করায় তার সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বৈঠকে বনের গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাকে ইজারা না দিতে এবং বনের জায়গা বনকে ফিরিয়ে দিতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে জোরালো দাবী জানানো হয়। এ বৈঠকে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন ও মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে উপস্থিত ছিলেন।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মল্লিকা দে জানান, বিষয়টি এখন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে, তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা প্রদান করবেন, আমরা তাই পালন করবো।

এ ব্যাপারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান জানান ‘বনের জায়গা খাস খতিয়ানভুক্ত করা নিয়ে এ ধরণের দ্বন্দ্ব সারাদেশেই চলছে এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে বনের ভূমি বনবিভাগের অধীনে বন হিসেবেই ফিরে আসে’।

তিনি বলেন, ‘হাজারগজ সংরক্ষিত বনের এই ভূমি সংক্রান্ত মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে এই মুহূর্তে কিছু জানা নেই। এই জায়গা ইজারা দেয়ার কোন উদ্যোগের বিষয়েও আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত না। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো’।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, যে অংশ নিয়ে এই চক্রান্ত হচ্ছে তা বনের হার্ট। যারা এখানে অতি উৎসাহী তারা বনের নয় নিজের স্বার্থ দেখছেন। কোন ভাবেই বনের এই অংশ লিজ নিতে দেওয়া যায়না বরং বনের জায়গা বনকে ফিরিয়ে দিয়ে বনকে সমৃদ্ধ করা উচিত। যারা এই বনের ভুমির শ্রেণী পরিবর্তন করেছেন তাদের সবাইকে তদন্তের মাধ্যেম সনাক্ত করা হউক। আমরা এই বন রক্ষায় প্রয়োজনে আন্দোলন করব।  

বনাঞ্চলের ভূমি ‘খাস জমি’ হিসেবে দেখিয়ে, চা উৎপাদনকারী কোম্পানিকে ইজারা দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের তোরজোড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘শত বছরব্যাপী সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য অপরিহার্য এরকম একটি বনাঞ্চলের ঠিক মধ্যবর্তী ভূমি “খাস জমি” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার নজির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা খুবই উদ্বেগজনক। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত বনটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশের সুষম ভারসাম্য রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশ পরিকল্পিতভাবে দৃশ্যত প্রভাবশালী একটি মহলের সঙ্গে যোগসাজশে এই অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিজিটাল জরিপে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘টিলা রকম’ ভূমির উল্লেখ করেছে। এর ফলে ভূমিটি ইজারা দেওয়া যেতে পারে বলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সুযোগ তৈরি করা হয়েছে মর্মে যে অভিযোগ উঠেছে, তার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’

একইভাবে, রেকর্ড সংশোধনের জন্য মৌলভীবাজার ভূমি জরিপ ট্রাইবুনালে জেলা প্রশাসন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও জুড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে বনবিভাগের বিচারাধীন মামলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চা উৎপাদন কোম্পানিকে মামলার নিষ্পত্তি সাপেক্ষে ইজারা দেওয়ার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তা প্রশ্নবিদ্ধ। যা একইসাথে চলমান ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষীদের পক্ষকেই ভারি করবে বলে মনে করে টিআইবি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন