২৩ বছর আগের ন্যাক্কারজনক হত্যা মামলার রায় হতে যাচ্ছে ২২ নভেম্বর - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০

২৩ বছর আগের ন্যাক্কারজনক হত্যা মামলার রায় হতে যাচ্ছে ২২ নভেম্বর


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
একে একে কেটেছে ২৩টি বছর। ৯ বছরের শিশুটি আজ বেঁচে থাকলে তার বয়স হতো ৩২। এই বয়সে রঙিন একটি সুখের সংসার হতো। হাল ধরতে পারতো পরিবারের। কিন্তু ১৯৯৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর এক কালোরাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের মোঃ আব্দুল বারীর পুত্র আলাল মিয়াকে (৯)। ওয়াজ মাহফিলের সেই রাতের পর সকালে পার্শ্ববর্তী ঘোপাল জামে মসজিদের উত্তরের মাঠে পাওয়া যায় শিশু আলাল মিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ।

এরপর কেটে গেছে প্রায় ২৩ বছর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ২২ নভেম্বর তৎসময়ের আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। হয়তো সেদিন সন্তানের সুবিচার দেখে বুকে জমে কষ্টের কিছুটা লাগভ হবে, সেই আশায় আছেন আলালের শয্যাশায়ী মা শারী বেগম। তিনি এখনও বেঁচে থাকলেও পুত্রহত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি মামলার বাদি আলালের পিতা আব্দুল বারী। ২০১৩ সালে তিনি মারা গেছেন।

মামলার এজাহার, চার্জশীট ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সনের ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল হতে ঘোপাল জামে মসজিদের পূর্ব পার্শ্বের মাঠে ওয়াজ মাহফিল চলছিল। আলাল মিয়া সন্ধ্যা অনুমান ৭টার দিকে ওয়াজ মাহফিলে যায়। রাত ৯ টা পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ীতে ফিরে না আসায় তার বাবা ও চাচারা তার খুঁজে বের হন। সারা রাত খোঁজাখুঁজি করে কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকাল বেলা ঘোপাল জামে মসজিদের উত্তরের মাঠে শিশু আলাল মিয়ার ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। সে স্থানীয় ঘোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলো। ৩ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে আলাল ছিলো ২য়।

আলাল হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা আব্দুল বারী বাদী হয়ে তৎকালীন কতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। জি আর মামলা নং-১৩৮১/৯৭। মামলায় আসামী করা হয়- ঘোপাল গ্রামের আলী আশরাফ ওরফে আলিশ, হেকিম আলী, আব্দুল মানিক, মকবুল, সাচ্চা, ছাবির, আলী আহমদ, আব্দুল জলিল, সোহেল, আব্দুর রহমান ফকির, সোনা উল্যাহ, সিরাজ, আনোয়ার, জমসিদ আলী ও তার কয়েকজন সহযোগীকে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামীদের সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলা মোকদ্দমা চলছিলো আলালের পরিবারের। এই আক্রোশে আসামীরা পরিকল্পিত ও নির্মমভাবে আলালকে হত্যা করে। মামলার আসামীদের মধ্যে বর্তমানে ২ জন পলাতক এবং ২ জন মারা গেছেন। অন্য আসামীরা রয়েছেন জামিনে।

অন্যদিকে মামলাটি সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে (দায়রা ১৪২৪/২০১৩) বিচারাধীন রয়েছে। আলোচিত এ মামলাটি তৎকালীন সময়ে কতোয়ালী থানার একজন এসআই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কতোয়ালী থানা হতে পরবর্তীতে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বাদী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৩ সালের ৫ মার্চ সি.আই.ডি সিলেট জোনের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান আদালতে আসামীদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩৬৪/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণও শেষ হয়েছে। দফায় দফায় তদন্ত ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সাক্ষিদের স্বাক্ষ্য প্রদানে বিলম্বের কারণে মামলাটি দীর্ঘসূত্রীতায় পড়ে যায়।  আসামীপক্ষের বার বার সময়ের আবেদন ও সাক্ষীর রিকল করার কারণে বিলম্ব হতে থাকে মামলার কার্যক্রম। সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য তারিখ ধার্য্য করেছেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত।

নিহত আলাল মিয়ার চাচা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, মামলার বাদী আলালের বাবা ২০১৩ সালে মারা গেছেন। এরপর থেকে তিনি মামলাটির বাদী। আদালত কর্তৃক বার বার সমন, ওয়ারেন্ট প্রেরণের পরও মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিতে না আসায়, আসামীদের বার বার সময়ের আবেদন ও সাক্ষীদের রিকলের কারণে মামলাটির কার্যক্রম থমকে ছিলো। তবে এবার মাননীয় আদালত রায়ের জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। এবার আমরা আশা করছি সুবিচার পাবো।

নিহত আলাল মিয়ার মা শারী বেগম বলেন, আলালের খুনীরা যখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়-তখন কষ্ট পাই। যত সময় যাচ্ছিলো মনে হয়েছে হয়তো ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারবো না। তবে এবার আশা করি আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন, আদালত রায়ের তারিখ ধার্য করেছেন। তিনি ছেলে হত্যার সাথে জড়িত খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তিরে আদেশ দেখার অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ঐ মামলা প্রায় ২৩ বছরের পুরনো একটি মামলা। ৯ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। মামলাটির এবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ২২ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত। বাদী সুষ্ঠু বিচার প্রাপ্তি রায়ে তাদের আশার প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী জানান, তিনি পিপি হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর শিশু আলাল হত্যা মামলাটির যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালত বিষয়টি নজরে নিয়ে আগামী ২২ নভেম্বর রায়ের জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। আশা করা যাচ্ছে এবার মামলাটি নিস্পত্তি হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন