গল্পঃ- ধর্ষিতা যখন বউ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গল্পঃ- ধর্ষিতা যখন বউ

লেখকঃ ফয়সাল আহমেদ শিশির

লেখকঃ ফয়সাল আহমেদ শিশির
(২য় পর্ব চলছে...)

তারেক যখন আবার গুলি করার জন্য প্রস্তুত হল তখন তারেকের সেই ভয়ংকর স্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেল...

তারেকের  হাত থেকে এবার আর গুলি বের হল না...


তারেক চলে গেল...

--কি তারেক? কাজ শেষ?

--না বস।

--মানে কি তারেক তোমার শিকারও মিস হয়?তাকে কি পাও নাই?

--পেয়েছি।

--তাহলে মারো নাই কেন?

--জানি না।যখন আমি শুট করবো তখন কি যেন এক অজানা শক্তি এসে আমাকে আর শুট করতে দেয় নি।


--তারেক কি বলো তুমি এসব?তোমার মুখে এসব কথা মানায় নাকি?কারো প্রেমে পড়ে গেছো নাকি?

--আরে না কি বলেন?

তারেকের এই বিষাক্ত জীবনে আবার প্রেম!

হাহাহাহাহা

--তাহলে এমন হল কেন তোমার?

--জানি না বস।

--আছা তুমি রেস্ট নাও। তারপর না হয় কাজ টা করবে।

--ওকে বস।


১৫/২০দিন পর যখন আবার তারেক সেই ক্লাইন্টকে হত্যা করতে যাবে। সেদিন সেই রাতেও তারেক আবার একই স্বপ্ন দেখে।....

সেদিনও তারেক ঐলোক কে হত্যা করতে পারলো না...

তারেক নিজেও বুঝতে পারছে না কি হল তারেকের...


২/৩ দিন পর আবার রাতে স্বপ্ন দেখলো যে....

তারেক কে একটা আগুনের কুণ্ডলীর পাশে নিয়ে যাওয়া হল।হটাৎ করে কে যেনো এসে তারেক কে পিছন থেকে ফেলে দিল আগুনের কুণ্ডলীতে। তারেক শুধু বাঁচাও বাঁচাও বলছে কিন্তু তারেক কে বাঁচানোর জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। হটাৎ করে তারেক দেখতে পায় একটা মেয়ে আগুনের ভয়াবহ কুণ্ডলী হয়ে তারেকের দিকে এগিয়ে আসছে...


তারেক দৌড়ে পালাবার চেষ্টা করছে।।।


কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না তারেক যত বেশি দ্রুত দৌড়াচ্ছে মেয়েটা তার থেকে আর বেশি দৌঁড়ে তারেকের দিকে এগিয়ে আসছে।।


অবশেষে, তারেক মেয়েটির দৌড়ের কাছে হার মানলো...


মেয়েটি তারেক কে জড়িয়ে ধরলো...


যেই মাত্র মেয়েটি তারেক কে জড়িয়ে ধরলো। আগুনের কুণ্ডলীতে তারেকের শরীর ঝলসে যাচ্ছে।অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছে তারেক এর। তারেক যতই মেয়েটি কে তার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করছে। মেয়েটি তত বেশিই তারেক কে জড়িয়ে ধরছে। আর তারেকের অনেক বেশি কষ্ঠ হচ্ছে....

--কিরে আমাকে ছেড়ে দিচ্ছিস কেন?

--আপনি আমাকে এত কষ্ট কেন দিচ্ছেন?

--সেদিন তো তুই আমাকেও কষ্ট দিয়েছিলি। আমিও তোর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য অনেক বেশি চেষ্টা করছিলাম। তারেক এখন লক্ষ্য করে দেখে মেয়েটি আর কেউ না। সেদিন যে মেয়েটিকে তারেক ধর্ষণ আর করছিল এই সেই মেয়ে জান্নাত।

--প্লিজ। বোন আমাকে ক্ষমা করে দাও।

--ক্ষমা!

ক্ষমা তো সেদিন আমিও চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে কি সেদিন তুই ক্ষমা করেছিলি?( জান্নাত হাসির সুরে)


--প্লিজ দয়া করো আমাকে।

--তোর মত নর পিচাষ ধর্ষকের কোনো ক্ষমা আমার কাছে নেই। আমার মতো একটা নিষ্পাপ জীবনকে তুই আগুনের কুণ্ডলীতে রূপ দিয়েছিস । এখন তুই সারাজীবন আগুনের কন্ডোলিতে মর।

একটুপর...

 তারেক কে আবার  অপরূপ সোন্দর একটা বাগান দেখতে পেল। বাগানটা সোন্দর সোন্দর ফল-ফুলে ভরা,দুধের নগর, মধুর নহর আরো অনেক কিছু তারেক শুধু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

একটু সামনে এগুতেই একটা রাজপ্রাসাদ দেখতে পায়।

তারেক রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলো।

কি অপরূপ সুন্দর রাজপ্রাসাদ পৃথিবীর কোথাও এমন রাজপ্রাসাদ তারেক কোথাও কোনোদিন দেখতে পায় নি।


তারেক আরেকটু সামনে এগুতেই দেখতে পায় রাজপ্রাসাদের রাজসিংহাসনে একটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটির চার পাশে দাস-দাসী।


আর মেয়েটি এত সুন্দর যে তারেক চোখই ফেরাতে পারছে না মেয়েটার উপর থেকে। দুধের থেকেও সুন্দর মেয়েটি,লাল শাড়ি,লাল চুরি, নোলক পড়ে আছে মেয়েটি। যার জন্য মেয়েটিকে আরো বেশি অসম্ভব সুন্দর লাগছে....


আর মেয়েটি এত সুন্দর  যে তারেক চোখই ফেরাতে পারছে না মেয়েটার উপর থেকে। দুধের থেকেও সোন্দর মেয়েটি,লাল শাড়ি,লাল চুরি, নোলক পড়ে আছে মেয়েটি। যার জন্য মেয়েটিকে আরো বেশি অসম্ভব সোন্দর লাগছে।

--এই কি দেখছ, এভাবে?( মেয়েটি)

--কিছু না।(তারেক হক চকিয়ে)আপনি অনেক সুন্দর।

--তাই। 

আমার সব সৌন্দর্য্য তো শুধু তোমার জন্য।


তারেক এখন ভালোভাবে খেয়াল করে দেখলো যে মেয়েটি জান্নাত যাকে তারেক ধর্ষণ করছিল।

তারেক কিছু বলবে এই মুহূর্তেই তারেকের ঘুম ভেঙে যায়।

তারেক এখন প্রচুর ভাবছে....

--কি ব্যাপার প্রথম জান্নাত আমাকে কষ্ট দিল।

তারপর আবার বলছে সে নাকি আমার?

কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমি।তারেক স্বপ্ন টা নিয়ে ভীষন চিন্তায় আছে।


তারেকের বস তারেক কে আজকে আবার ফোন করছে....

--তারেক কাজ টা শেষ করছো?

--না বস আমি আর খারাপ কাজ করবো না। আমি ভাল হয়র যাবো।

--তারেক তুমি কি বলছো?ভেবে বলছো?

--ভেবেই বলছি।

--তুমি তো জানো তারেক এই লাইন থেকে জীবিত আসা যায় কিন্তু ফিরে যেতে হয় লাশ হয়ে।

--আমি জীবিতই ফিরে যাবো। দেখি কোন বাপের বেটা আমাকে ফিরায়।

--ওকে তারেক আমি তোমাকে দেখে নিব।

তারেক স্বপ্ন টা নিয়ে ভেবেই যাচ্ছে....

এর কাছে জিজ্ঞাস করছে তার কাছে জিজ্ঞাস করছে। কিন্তু কেউ বলতে পারছে না। অবেশেষে একজন বললো যে, আপনি যেই হুজুর কে হত্যা করতে গিয়েছিলেন সে আপনার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলে দিতে পারবে।

তারেক তারপর সেই হুজুরের কাছে গেল। গিয়ে হুজুরের পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইলো.....

--কে তুমি বাবা?

--আমাকে আপনি চিনবেন না।আমি অমুকের লোক। আপনাকে হত্যার করার জন্য আমাকে পাঠিয়েছিল।কিন্তু আমি আপনাকে খুন করতে পারি নাই। আপনার মায়াবী চেহারায় আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। আমি ভালো হয়ে যেতে চাই।

--আলহামদুলিল্লাহ। এটা তো সুখবর।

--এখন ভালো হলে কি আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন??

--মা, যেমন হারানো সন্তান ফিরে পেলে খূশি হয়। তার থেকে বেশি খুশি হয় আমার আল্লাহ পাপী বান্দা যখন তার পাপের কথা স্বরণ করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।

তারেকের মুখে এখন একটু হাসি উজ্জ্বল ভাব।

--হুজুর আরেক টা জিনিস জানতে চাইবো?

--কি?

তারেক তারপর স্বপ্নের সম্পূর্ণ কথা বললো এবং জান্নাতকে ধর্ষণের কথাও সম্পূর্ণ হুজুরকে বললো....

--স্বপ্নের ব্যাখ্যা হল।।

যদি তুমি এভাবে অন্যায় পথে চলতে থাকতে তাহলে তুমি জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে। আর তুমি যদি তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো তাহলে এমন সোন্দর জান্নাত পাবে আর সাথে ওই মেয়েটার মতো আরো অনেক জান্নাতি রমণী উপহার থাকবে তোমার জন্য।.....

--হুজুর আমাকে তাড়াতাড়ি তওবা করান।আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়তে চাই না। আমাকে বাঁচান হুজুর। হুজুর তারেক কে ওযু গোসল করিয়ে তওবা করালেন।

--তুমি যে ওদের দল ছেড়ে চলে আসছো। ওরা তোমাকে কিছু করবে না?

--আমাকে দেখা মাত্রই মেরে ফেলবে।

--তুমি এক কাজ করো।তুমি আমার সাথে চলো আমার বাসায় গাঁ ডাকা দাও।

--তা কি করে হয় হুজুর?

--আরে বেটা আসো তো।

এই বলে তারেক কে হুজুর তার বাসায় নিয়ে গেল।...

--মা, মা এই দিকে আসো তো একটু।


পর্দার আড়াল থেকে হিজাব পড়া একটি মেয়ে বেড়িয়ে আসলো। মেয়েটির সারা শরীরে কাপড়। এমন কি চোখ টাও দেখা যাচ্ছে না।ভিতরে কি মানুষ আছে নাকি ভুত পেত্নী কিছুই বুঝতে পারলো না তারেক...


--জি বাবা বলুন।

মেয়েটি এত আস্তে কথা বললো যে হুজুর ছাড়া তারেক বুঝতেই পারলো না যে মেয়েটি কি বলছে??

তারপর মেয়েটি তাদেরকে রুমে নিয়ে গেল। নিয়ে গিয়ে তাদের কে খাওয়া দাওয়া করালো।

একটুপর তারেক হজুড়ের রুমে প্রবেশ করলো....

--তারেক কিছু বলবে?

--জ্বি হুজুর, কিছু বলতাম।

--বলো?

--আচ্ছা হুজুর এই গরমের দিনে আপনার মেয়ে এত কাপড় পড়ে এমন ভূত পেত্নীর মতো হয়ে আছে কেন??

--ইসলামে পর্দা করা ফরজ। নামাজ পড়া যেমন ফরজ তেমনি পর্দা করাও ফরজ। মেয়েরা বাবা,সৎ বাবা,দুধ বাবা,শশুর,(আপন) ভাই,সৎ ভাই,দুধ ভাই,(আপন) কাকা,মামা,দাদা, নানা, নিজের ছেলে, ভাইয়ের ছেলে,বোনের ছেলে,


এই ১৪জন মানুষ ছাড়া অন্য সব পুরুষদের সামনে গেলে এমন পর্দা করে যেতে হবে। আবার ছেলেরা মা,সৎ মা,দুধ মা,খালা,ফুফু,শাশুড়ী, (আপন) বোন, সৎ বোন, দুধ বোন,দাদি,নানী,নিজের মেয়ে,বোনের মেয়ে,ভাইয়ের মেয়ে তাদেরকে ছেলেরা দেখতে পারবে কিন্তু অন্য নারীর দিকে তাকাতে পারবে না।তারপর হুজুর সূরা নূরের ৩০ এবং ৩১ নাম্বার আয়াত ব্যাখ্যা করে দিয়ে তারেক কে সব বুঝিয়ে দিলেন।


তারেক তারপর নামাজের সব কিছু শিখে নিলেন। রাতে তাহাজ্জুদ এর সময় ওঠে নামাজে দাঁড়ালো....


তারেক যতই নামাজ পড়ছে ততই তারেকের মনে শান্তি লাগছে। কি যে শান্তি লাগছে তারেকের টা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। তারেক সিজদায় গেল।

সিজদায় গিয়ে তারেক অঝরে কাঁদা শুরু করে দিল।

তারেক যতই কাঁদছে ততবেশিই মজা পাচ্ছে।

তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করে তারেক একটু ঘুমানোর জন্য আবার বিছানায় শুইয়ে পড়লো...

ঘরে তেমন দামি দামি আসবাবপত্র জিনিস নেই তবুও ঘর টা অনেক গোছ গাছ করে রাখছে দেখতে ঘরটা অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।


তারেক শোয়ে শোয়ে ভাবছে আহ কি সোন্দর পরিবার ঘরে কি শান্তি! মেয়েটাও অনেক বেশি পরহেজগার নেককার।বাবা যেমন ধার্মিক মেয়েটাও তেমন পরহেজগার ধার্মিক হয়েছে। নাহলে কি আর এই গরমের মাঝেও পর্দা করে।


পরদিন সকালে....


তারেক আর হুজুর ফজর নামাজ পড়ে এসে দুজনই রাস্তায় বের হলো ঘুরার জন্য।....


হটাৎ একটা গুলির শব্দ শুনতে পায় তারেক। তারেক পাশে তাকিয়ে দেখে হুজুর টার শরীরে গুলি লেগেছে। তারেক আসে পাশে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই।


হয়তো গুলিটা টা অনেক দূর থেকে করছে।

তারেক তাড়াতাড়ি করে হুজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করালো।


কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে জানালো রোগীর অবস্থা মুমূর্ষু  তার হার্টে গুলি লাগছে অপারেশন করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে রক্ত লাগবে..

--রক্তের গ্রুপ কি ডাক্তার?

--O(+ve)

--ডাক্তার আমার রক্তের গ্রুপ O(+ve)

আমার শরীর থেকে রক্ত নিয়ে তাকে বাঁচান।

তারপর তারেকের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে হুজুরের অপারেশন করা হল।

ডাক্তার বের হলো অপারেশন থিয়েটার থেকে...


--ডাক্তার রোগীর কি খবর??

--অপারেশন সাকসেসফুল।

রোগী এখন বিপদমুক্ত।

টিভি জ্ঞান ফিরতে আরো ১২ ঘন্টা লাগবে এর আগে জ্ঞান ফিরবে না। আপনি আপনার কোনো কাজ থাকলে তা সেরে আসতে পারেন।


তারেক চলে গেল তার পুরোনো সন্ত্রাসী আড্ডাখানায় গিয়ে সবাইকে মেরে তক্তা বানিয়ে দিয়ে তারেকের বস সহ সবাইকে ঘরের মাঝে রশি দিয়ে বেঁধে প্রেটুল দিয়ে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে সবগুলোরে পুড়ে ছাই করে ফেলল....


এরপর তারেক হুজুরের বাসায় গেল...

-- আপু আপনি কোথায়?


 মেয়েটি সম্ভবত কোনো কাজ করছিল। তাড়াতাড়ি করে পর্দার আড়ালে চলে গেল।...


--জ্বি, বলুন (পর্দার আড়াল থেকে মেয়েটি)


--কি হল কিছু বলছেন না কেন?


মেয়েটি এত আস্তে কথা বলে যার দরুন তারেক মেয়েটির কোনো কথায় শোনতে পাচ্ছে না।

--আরে আপনি আমার সামনে আসেন তো?


মেয়েটি বোরকা পড়তে যেতে চাইলে তারেক..

--আরে আপনি তাড়াতাড়ি আসেন তো আমার সময় নাই। বোরকা পড়তে হবে না আপনার।

মেয়েটি বোরকা পড়ে এসে।

--কি বলেন আপনি এসব?বোরকা পড়তে হবে না মানে কি?আপনি জানেন না পর্দা করা ফরজ?আর আপনি আমাকে পর্দা করতে মানা করছেন?


আর আমি ৮/১০ টা মেয়েদের মতো না বুঝেছেন। আমি অন্যরকম আমাকে আজ পর্যন্ত আমার বাবা ছাড়া আর কেউ দেখে নাই। আর আমার মুখ থেকে এত গুলো কথাও আজ পর্যন্ত কেউ শোনে নাই।


এখনো আস্তে আস্তে এখন কাছে থেকে তো তাই তারেক এখন একটু শোনতে পাচ্ছে মেয়েটির কথা।

তারেক মেয়েটির কথা শোনে এখন নিজের কাছেই বার বার প্রশ্ন করছে।

--হায় আল্লাহ আমি এটা কি করলাম?আমি এমন একটা পরহেজগার মেয়ের বিরোধিতা করলাম।

আরো অনেক অনুতপ্ত হতে লাগলো তারেক....

--আমাকে ক্ষমা করবেন আমার ভুল হয়ে গেছে।

আর শুনুন আপনার বাবা কে জানি গুলি করছিল। আপনার বাবার অপারেশন হয়েছে আপনার বাবা বিপদমুক্ত আছে।


মনে হয় আমার বসের লোকেরা তাই আমি ওদেরকে সবাইকে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলে এসেছি।

মেয়েটি বাবার অসুস্থতার কথা শুনেই হাওমাও করে কেঁদে দিল।

--আর, আপনি আবার মানুষ খুন করছেন?

--ওদের খুন করবো নাতো কি করবো? ওরা কেন হুজরের মতো একজন ভালো মানুষকে মারতে চায়?আপনি কি আমার সাথে এখন আপনার আব্বুর ঐখান যাবেন?

--আমি চলে গেলে বাসায় এসব কাজ কে করবে?আর আপনারা খাবেন কি?


--তাও তো কথা।


আচ্ছা, তাহলে আমি যাই আপনি থাকেন।তারপর তারেক হাসপাতালে চলে গেল।হাসপাতালে যাওয়ার আরো ২ঘন্টা পর হুজুরের জ্ঞান ফিরলো।...


ডাক্তার এসে বললো তার সুস্থ হওয়ার জন্য তাকে আরো ৫/৬ দিন থেকে যেতে হবে।

তারেক তারপর আবার বাড়িতে চলে গেল...

বাড়িতে গিয়ে হুজুরের মেয়েকে জানিয়ে আসে যে হুজুর কে আরো ৫/৬ দিন হাসপাতালে থাকতে হবে। আমিও হুজুরের কাছে থাকবো। শুধু সকাল আর রাতে এসে খাবার নিয়ে যাবো।


এভাবেই চলছিল সব কিছু......

এরই মাঝে, 

৫ দিন তারেক হুজুরের মেয়ে কে দাও দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে....

৬ষ্ঠ দিন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় বিষয় টা।

হুজুরও জানতে পারে বিষয়টি।

তারপর হুজুর গ্রামে সালিশি ডাকে....

--তারেক তুমি কেন এমন করলে?

তারেক কোনো কথা বলছে না। তারেকের মুখ বন্ধ।

সবাই অনেক চেষ্টা করলো তারেকের কাছ থেকে কথা বের করার জন্য কিন্তু সবাই ব্যর্থ হলো।

এরপর সালিসীর মাধ্বররা সবাই মিলে তারেককে চাবুক মেরে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত দিল।

তারেক ইচ্ছা মতো চাবুক মারা হলো।

অবশেষে তারেক মৃত্যুর কূলে ডলে পড়লো।

--এখন একে এখানে ফেলে রাখলে তো পুলিশ এসে ধরবে আমাদের কে। (মাদবররা)

একে এদেশ থেকে অন্য কোথাও অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে আসো।


তারপর সেদিনই কজন মিলে তারেক কে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জঙ্গলে ফেলে রেখে আসলো।......

জন মানবহীন বনে পড়ে আছে তারেকের নিথর দেহ।...

একটুপর, রফিক সাহেব বনের ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন পাশের গ্রামে ফজর নামাজ পড়ানোর জন্য। বন টা দুই গ্রামের মাঝখানে পড়ছে বন টা। রফিক সাহেব প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে।


হটাৎ রফিক সাহেব আছাড় খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন।

রফিক সাহেব ফোনের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে দেখেন একটা লাশ পড়ে আছে।

রফিক সাহেব একটু ভয় পেয়ে গেলেন।রফিক সাহেব ভাবছেন লাশটাকে কি দেখবে নাকি না দেখে এখান থেকে চুপচাপ চলে যাবে।রফিক সাহেব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন...

অবশেষে রফিক সাহেব ডিসিশন নিয়েই ফেললেন যে সে লাশ টা দেখবে যা হবার হবে।

রফিক সাহেব ভয়ে ভয়ে দোয়া কালেমা পড়তে পড়তে লাশটা উপুর করলেন।গালে কুচ কুচে দাঁড়ি মায়াবী এক চেহেরা।


রফিক সাহেব ভাবছেন এমন একটা নিষ্পাপ লোক কে হত্যা করলো।...

রফিক সাহেব  কি করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।

অবশেষে রফিক সাহেবের মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো যে, একটু নাড়ি টিপে দেখি তো লোকটা জীবিত আছে নাকি মারা গেছে।

রফিক সাহেব তার মাথা টা যেই মাত্র তারেকের পেটে দিলেন। সেই মাত্র রফিক সাহেব দেখতে পায় যে ছেলেটি মারা যায় নাই।

রফিক সাহেব আজকে আর ফজর নামাজ পড়াতে না গিয়ে তারেক কে বাসায় নিয়ে আসলো।...


তারেক কে বাসায়  এনে ডাক্তার ডাকলো...

ডাক্তার চিকিৎসা করলেন এবং প্রায় ২/৩ ঘন্টা পর তারেকের জ্ঞান ফিরলো.....

--আমি এখানে কেন??

--তোমাকে কে বা কারা যেন মেরে একটা বনে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল তারপর আমি তোমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি আমার বাড়িতে। তুমি এখন আমার বাড়িতে আছো।

--এটা কোন জায়গা??

--ময়মনসিংহ।

--ময়মনসিংহ এটা আবার কোথায়?

--তুমি কোথায় থাকতে?

--কলকাতা।

রফিক সাহেব তখন বুঝলেন যে সে ভারতে থাকে তাই ময়মনসিংহ চিনতে পারছে না।

--এটা বাংলাদেশ।

--ওও। আপনাকে কি বলে যে ধণ্যবাদ দিব তার ভাষা আমার কাছে জানা নেই।আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন।

--আরে কি বলছো তুমি?

আমি আবার তোমায় কিভাবে বাঁচলাম বাঁচানোর মালিক তো ওই উপর ওয়ালা।

গল্পটা আপনার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে শেয়ার করুন। ইনশাআল্লাহ আমাদের দৈনিক সংবাদ নিউজ পোর্টালে ধর্ষিতা যখন বউ গল্পের ৩য় পর্ব পাবেন এবং পূর্ববর্তীও পাবেন। এভাবেই আমাদের ওয়েব সাইটে সম্পূর্ণ গল্পটি শেয়ার করবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন