ছয় মাস ধরে কলেজ বন্ধ, তবু ছাত্রাবাস খোলা কেনো? - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ছয় মাস ধরে কলেজ বন্ধ, তবু ছাত্রাবাস খোলা কেনো?

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
করোনা সংক্রমণের কারণে ১৭ মার্চ থেকে আর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো এমসি কলেজও বন্ধ রয়েছে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের ছাত্রাবাসগুলোও বন্ধ ছয়মাসের অধিক সময় ধরে। তবে ব্যতিক্রম শুধু সিলেট মুরারীচাঁদ (এমসি) কলেজ। এই কলেজ বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে ছাত্রাবাস।

কেনো খোলা রয়েছে এমসি কলেজের ছাত্রাবাস? অধ্যক্ষ বলছেন, দরিদ্র ছাত্রদের কথা বিবেচনা করেই ছাত্রাবাস খোলা রাখা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্ধের পর ছাত্রাবাসে মূলত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই রয়েছে। তাদের সুবিধার জন্যই ছাত্রাবাসটি চালু রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার রাতে এই ছাত্রাবাসেই এক তরুণকী গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এঘটনার পর শনিবার ছাত্রাবাসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। আজ শনিবার দুপুর বারোটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এমসি কলেজ ছাত্রাবাস ছাত্রলীগের দখলে। ছাত্রদের পাশপাশি অনেক অছাত্রও এখানে আস্তানা গেড়েছে। ছাত্রাবাসের ভেতরে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী। টিলাগড় এলাকার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্রয়ে ছাত্রাবাসে ভেতরে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে তারা। মাদক সেবন ও ব্যবসা, জুয়ার আসর বসানোসহ নানা অপকর্ম চলে ছাত্রাবাসের ভেতরে। ছাত্রাবাসের ভেতরে অস্ত্রের মজুদ করে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

এই অপকর্ম অব্যাহত রাখতেই বন্ধের সময়েও ছাত্রাবাস ছাড়তে রাজী হয়নি ছাত্রলীগ। কলেজ প্রশাসনও তাদের ছাত্রাবাস ছাড়া করতে পারেনি। ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের সাথে কলেজ প্রশাসনও জড়িত রয়েছে এমন অভিযোগও করেছেন অনেকে। এরমধ্যে শুক্রবার রাতে ঘটে গণধর্ষণের ঘটনা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

তবে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদ এ ব্যপারে বলেন, কলেজের গরীর ও মেধাবী ছাত্রদের সুবিধার জন্য ছাত্রাবাস খোলা ছিলো। যারা কিনা টিউশনি ও ছোটখাটো চাকরি করে তাদের পড়াশোনার খরচ যোগাচ্ছে। তবে কলেজের ছাত্রাবাস খোলা থাকলেও হোস্টেলের ক্যান্টিন বন্ধ ছিলো, ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা খাওয়া দাওয়া করতো বাইরেই।

ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে। এছড়া শনিবার দুপুর বারোটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন