গল্পঃ ধর্ষিতা যখন বউ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গল্পঃ ধর্ষিতা যখন বউ


পর্বঃ১ম

লেখকঃ ফয়সাল আহমেদ শিশির

জান্নাত চিৎকার করছে ....

জোরে জোরে চিৎকারও করতে পারতেছে না।জান্নাতের হাত-পা,চোখ-মুখ সব বাধা।

তারেকের বাহিনী জান্নাতকে হাত-মুখ বেঁধে গভীর অরণ্যের মাঝখান দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট নিয়ে যাওয়ার পর। একটা ঘরের মাঝে নিয়ে গেল জান্নাতকে।

জান্নাত ভয়ে ভয়ে থম থম করে কাঁপছে।....

একটু পরে তারেক ঘরে প্রবেশ করলো....

--নাম কি তোর? (তারেক ঘরে ডুকেই জান্নাতকে)
--হুমায়রা জান্নাত।
--তুই কি জানিস এখানে তোকে কেন নিয়ে এসেছি?
--না।
--এখানে তোকে ধর্ষণ করার জন্য নিয়ে এসেছি।

কথা টা শোনেই জান্নাতের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো...

জান্নাতের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল..

জান্নাত চিৎকার করে কান্না করতে শুরু করলো...

--এই চু.....নি,খা...কি চিৎকার করতেছিস কেন?

জান্নাত তারেকের পায়ে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকলো।...

--প্লিজ ভাইয়া আমার এত বড় সর্বনাশ করবেন না।প্লিজ ভাইয়া প্লিজ। আমি তো আপনার ছোট বোনের মত।

আচ্ছা ভাইয়া আপনি কি পারতেন আপনার নিজের ছোট বোনকে ধর্ষণ করতে???......

কে শুনে কার কথা।......

তারেক জান্নাতের কথায় বিরক্ত হয়ে জান্নাতের কোমল ধবধবে সাদা দুটো গালে কষে দুইটা থাপ্পড় মারলো।

থাপ্পড় খেয়ে জান্নাত অজ্ঞান হয়ে গেল।

থাপ্পড়ে জান্নাতের গাল দুইটা লাল টকটকে হয়ে গেল....

তারেক জানোয়ারের মতো জান্নাতের অজ্ঞান শরীরে ঝাপিয়ে পড়লো।....

জান্নাত জ্ঞান ফিরার পর দেখতে পায় যে তার শরীরে কোনো কাপড় নেই এবং শরীরে অজছরো দাগ।....

একটু পর তারেক আবার রুমে ডুকলো....

তারেক কিছু রুটি আর পানি দিল জান্নাতকে খাবার জন্য।

জান্নাত না খেয়ে ঐগুলো জানালা দিয়ে ছুঁড়ে মারলো।...

তারেক আবার জান্নাতের উপর ঝাপিয়ে পড়লো।

টানা চার বার তারেক জান্নাতকে ধর্ষণ করলো।....

জান্নাত এখন হাঁটতে পারছে না।

জান্নাত ফ্যানের পাখার সাথে উড়না বাধলো মরে যাওয়ার জন্য।

--কি ব্যাপার এখানে তো মরা যাবে না?

তোকে এখানে মরে যাবার জন্য তো ধর্ষণ করি নাই।

বাড়িতে গিয়ে মরবি,যাতে লজ্জায় সমাজে তোর পরিবার কারো সামনে মুখ দেখাতে না পারে।"

--আমার অপরাধ টা কি?
--অপরাধ তুই করিস নাই,অপরাধ করছে তোর বাবা।
--কি এমন অপরাধ করছে আমার বাবা?

যার জন্য আমাকে এত বড় সর্বনাশ করলেন আপনি?

--সেটা বাড়িতে গেলেই  বুঝতে পারবি।
--আপনি বলেন?
--সেটা আমি এখন এই মূহুর্তে বলার কোনো প্রয়োজন মনে করি না।
--তাহলে আমার এমন সর্বনাশ টা কেন ?
--এই ছেড়ি এই এত কথা বলিস কেন?

তারেকের গর্জনে জান্নাত ভয়ে স্থতমত হয়ে গেল.....

পরদিন সকালে তারেকের লোকজনেরা জান্নাতকে তার বাড়ির সামনে রেখে আসলো।এবং  পাড়ার সব লোক কে জান্নাতকে ধর্ষণের বিষয়টা জানিয়ে আসলো।..

গ্রামের সবাই জান্নাতের বাবা মাকে থুথু দিতে শুরু করলো।..

ঘরে ডুকেই জান্নাত দরজা বন্ধ করে পাখায় উড়না পেঁচালো..

--কিরে জান্নাত?

তুই আত্মহত্যা কেন করছিস?

তুই কি জানিস না আত্মহত্যা মহাপাপ?

তুই একটা আলেমা হয়েও এমন জগন্য কাজ করার ভাবনা ভাবলি কিভাবে?

তুই আত্মহত্যা করলে তো এই জগৎ ও পেলি না পরের জগৎও হারাবি।(জান্নাতের বিবেক)

--আমি কি করবো তাহলে এখন?

আমার তো সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।

আমি সমাজে মুখ দেখাবো কেমনে?(জান্নাত)

--এটাই তো আল্লাহর পরীক্ষা।

"তোমরা কি মনে কর যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনো জানেননি তাদেরকে যারা তোমাদের মধ্য থেকে জিহাদ করেছে এবং জানেননি ধৈর্যশীলদেরকে।"(আলে-ইমরান: ১৪২)

এই আয়াত টা কি তুই পড়িস নি??

আরে বোকা জান্নাত যাওয়া কি এতই সহজ?

ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া,সুমাইয়া(রা:) তাদের জীবনী কি তুই পড়িস?
"আর তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখিত হয়ো না, আর তোমরাই বিজয়ী যদি মুমিন হয়ে থাক।"(আলে-ইমরান: ১৩৯)

তাহলে ভয় কেন করছিস?

এটা তোর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা ধৈর্য্য ধর ইনশাআল্লাহ একদিন না একদিন তুই সফল হবিই।আর দেখবি এর মাঝেই আল্লাহ তোর জন্য উত্তম কিছু রেখে দিয়েছেন।"

জান্নাত এখন গোসল করে এসে তওবা করে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে দুই রাকাত নামাজের নিয়ত করে সিজদায় লুটিয়ে পড়লো।....
একটু পর জান্নাতের বাবা তার রুমে আসলো...

--কি হয়েছে,মা?
--????(জান্নাত চুপ)
--কি হয়েছে?
--????(এখনো জান্নাত চুপ করে আছে।)
--আরে, মা বলবি তো কি হয়েছে?
--?????(এবারও কোনো উত্তর নেই।)

জান্নাত এখন তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিল....
--আরে মা কাঁদিস কেন?
এটা তোর উপর আল্লাহর ঈমানের পরীক্ষা।
 ধৈর্য্য ধর।
দুনিয়া কাফেরের জন্য জান্নাত আর মুমিনের জন্য দোযখ।

ধৈর্য্য ধারণ কর মা আল্লাহ তোর জন্য অবস্যই তোর জীবনে ভালো কিছু রেখে দিয়েছেন।একমাত্র আল্লাহই তো উত্তম পরিকল্পনাকারি।"

(এতক্ষন ধরে হুদাই পেঁচাল পারতেছি।আসুন আজকে আপনাদের বলি কেন তারেক জান্নাত কে ধর্ষণ করলো?...)

জান্নাত একজন অত্যন্ত নম্র-ভদ্র,পরহেজগার এবং আল্লাহর মোত্তাকী বান্দি।শুধু তাই নয় জান্নাত একজন আলেমাও। দুই বোন এক ভাইয়ের মাঝে জান্নাত সবার বড়।জান্নাতের বাবা একজন হক্কানী আলেম-বুজুর্গ।জান্নাতের বাড়ি ভারতের কলকাতা শহরে। জান্নাতের বাবা অল ইন্ডিয়া ইত্তেহীদুল মুসলিহীন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী।

আর, তারেক রাস্তায় জন্ম নেওয়া একজন টোকাই।বাবা-মা কিছুই না।তারেক বিশ্ব-কুখ্যাত সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের একজন কর্মী।

জান্নাতের বাবা তার প্রত্যেক টা ওয়াজ মাহফিলে মুসলিম হত্যাকারী বর্বর কুখ্যাত সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে উচ্চ কন্ঠে বক্তব্য দেয়। জান্নাতের বাবার উপর সরকারি দলের লোকেরা বিভিন্ন জেলা-জরিমানা করছে তবুও থামাতে পারে নি।তাই অবশেষে তারেকে দিয়ে জান্নাতকে ধর্ষণ করায়।
সকালে, তারেকর লোকজনেরা মহল্লার সবাইকে জান্নাতকে ধর্ষণের কথা বলে দেয়।পাড়ায় পাড়ায় জানাজানি হয়ে যায়।লোকেরা সবাই জান্নাত ও জান্নাতের বাবা কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে শুরু করে। সবাই থুতু থুতু দেওয়া শুরু করে জান্নাতদেরকে।

এসব সহ্য করতে না পেরে জান্নাতের বাবা তাদের পরিবার নিয়ে কোথায় যে চলে যায় কেউ জানে না।....

--তারেক কোথায়  আছো তুমি?
--এইতো  বস, কোথাও না ক্লাবে বসে আড্ডা দিতেছি।
--কাজ কি ঐটা শেষ করছো?
--আরে বস এটা কি আবার বলা লাগে নাকি!
শেষ করছি মানে ওদেরকে একবারে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি!
--ওও তাই নাকি?
ধন্যবাদ।কাল দেখা কইরো।
--ওকে বস।
তারেক মদ খেয়ে মাতাল হয়ে ক্লাব থেকে বের হল বাসায় যাবার জন্য।

নির্জন নিরিবিলি নিস্তব্ধ রাস্তা দিয়ে একা একা হাঁটছে তারেক।হঠাৎ, রাস্তার মাঝে কি যেন মধুর একটা বানী শোনতে পেল তারেক!
তারেকের কাছে সুর টা যেন ক্রমেই ভালো লাগতে শুরু করলো।

কোথায় বাজতেছে এই সুর তারেক খোঁজতে লাগলো??
তারেক কন্ঠ টা যতই শুনছে ততই তার কাছে ভালো লাগছে।
অবশেষে তারেক খোঁজে পেল এটা কোথায় বাজছে??
একটা দোকানে বাজতেছে..
হাজারো ব্যথা বেদনার পরে,ফিরে আসো নি তুমি আপন ঘরে,

দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে, চলে গেলে মদিনায় মক্কা ছেড়ে,,
হে রাসূল, তোমাকে ভুলি আমি কেমন করে?
হে রাসূল, তোমাকে ভুলি আমি কেমন করে?
হাজারো ব্যথা বেদনার পরে,ফিরে আসো নি তুমি আপন ঘরে,দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে, চলে গেলে মদিনায় মক্কা ছেড়ে,,হে রাসূল, তোমাকে ভুলি আমি কেমন করে?হে রাসূল, তোমাকে ভুলি আমি কেমন করে?খেয়ে না খেয়ে দ্বীন প্রচারের কাজে নিজেকে দিয়েছো বিলিয়ে।তায়েফের কাফেরা চিনলো না সে আলো,দুষ্ট ছেলেদের পিছু দিল লেলিয়ে।........

--কে এই শিল্পী?(তারেক দোকানদারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো)
দোকানদার তো ভয়ে কাঁপছে.....
কারণ তারেক হুজুরদেরকে মোটেও দেখতে পারে না।

তারেক এতক্ষন তো শুধু শিল্পীর গান শুনছিল এখন সামনে সরাসরি দেখছে টিভিতে...

অপরূপ মায়াবী চেহেরা,

তারেক যতই শিল্পীর দিকে তাকাচ্ছে ততই মায়ায় পড়ে যাচ্ছে, যেমন সুর তেমন নূরানী চেহেরা।
--এই কাকু বলেন না কেন কে ইনি?
--ইনি শিল্পী না ইনি আলেম/বক্তা ওয়াজ করে মানুষ কে হেদায়াতের পথ দেখায়।(দোকানদার এইবার ভয়ে ভয়ে)
--ওও তো নাম কি তার??
--মিজানুর রহমান আজহারী।
তারেক একটু পর দেখতে পায় যে, শিল্পিটি আবার কথাও বলছে তাও ইংরেজি তে।

তারেক একটু অবাকই হল
--কি ব্যাপার হুজুর রাও আবার ইংরেজি পারে নাকি?
তারেক হুজুর/আলেমদের দেখতেই পারে না কিন্তু আজ যেন তারেকের কি হল?

সে যতই মিজানুর রহমান আজহারির কন্ঠ শুনছে ততই তার ভালো লাগছে,,,একটুও খারাপ লাগছে না তারেকের।
--কাকু আমাকে এই ভিডিওটি দেওয়া যাবে?
--দেওয়া যাবে না কেন অবস্যই দেওয়া যাবে।
--তাহলে দেন আমাকে?

দোকানদার তারেককে মোবাইল থেকে শেয়ার করে দিয়ে দিল ভিডিওটি।
তারেক ভিডিও টি নিয়ে বাসায় চলে আসলো।

ভিডিও টি ছিল তাওবার ওয়াজ নিয়ে। আপনারা যারা মিজানুর রহমান আজহারিরের শুনেন তারা তো ভালো করেই জানেন যে আজহারি তার সব গুলো ওয়াজের মধ্যে সব থেকে বেশি কান্না করছিল তাওবার ওয়াজে।তারেক ওয়াজ টা শুনছে আর তারেকের চোখ দিয়ে টপ টপ করে জল পড়ছে।খুব অনুতপ্ত হচ্ছে তারেক।তারেক এবার তার নিজের ভুল গুলো বুঝতে পারছে।

সারাজীবনের খারাপ কাজ গুলোর জন্য অনুতপ্ত হচ্ছে তারেক।

তারেক জন্ম-সূত্রে মূসলিম হলেও তার ধারাবাহিকতা আর রাখে নাই সে ছোট থেকেই টোকাই,উগ্রবাদ হিন্দুদের সাথে চলে চলে তাদের মতোই হয়ে গিয়েছে।
এভাবেই তারেক সেদিনের মতো ঘুমিয়ে যায়.....পরদিন সকালে তারেক ঘুম থেকে উঠলো.....

তারেকের মন টা একটু ভার তার ভিতর কেমন জানি করছে??
কি যেন নাই নাই মনে হচ্ছে???
তারেক একটু পর আবার ওই চাচার দোকানে গেল....

--কি বাবা সিগারেট লাগবে?
--না।
--তাহলে, বাবা কি দিব চা নাকি পান?
--চাচা এসব কিছুই লাগবে না।
--তাহলে, বাবা কিসের জন্য আসছো দোকানে?
--চাচা সেদিন যে হুজুরের ওয়াজ দিলেন তার কি আরো ওয়াজ আপনার কাছে আছে??
--নাই তবে তুমি Youtube  থেকে নামিয়ে নিতে পারো।
--কি লিখে সার্চ দিব কাকা?
--মিজানুর রহমান আজহারি ওয়াজ।
--ওকে, চাচা আসি।
--বসবে না আজ?
--না,চাচা।

বাসার দিকে রওনা দিল তারেক।..

অর্ধেক রাস্তা এসেই আবার তারেক দোকানের দিকে গেল।..
--বাসা কোথায় তার??
--ইনি আমাদের ভারতীয় বক্তা না, তিনি বাংলাদেশি বক্তা।তার জন্মস্থান বাংলাদেশে।
তিনি লেখা পড়া করছেন মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে।
--আমি আরো ভাবছিলাম সে আমাদের দেশি (ভারতীয়)
--না সে বাংলাদেশি।
--লোকটা কিন্তু অনেক স্মার্ট।
--হুম, ঠিক বলছো।
--আচ্ছা কাকা আজ তাহলে আসি।
--চা-পান-বিড়ি-সিগারেট কিচ্ছু খাবা না আজ?
--সিগারেট দিয়ে দেন কয়েকটা কাকা।
--আচ্ছা এই নাও।
তারেক সিগারেট গুলো নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হল...

রাস্তায় সিগারেট টেনে টেনে আসছে আর ওয়াজ শুনছে।....

একটুপর তারেক দেখতে পায় সিগারেট টা যেন তার কাছে আজ আর ওই রকম ভালো লাগছে না।কেমন যেন বিরক্তিকর লাগছে সিগারেট টা।

মনে মনে রাগ হলো দোকানদারের উপর, 

--হয়তো ভাল সিগারেট দেয় নি আজ।কিন্তু আমাকে তো খারাপ সিগারেট দেওয়ার সাহস কারো নেই।(মনে মনে তারেক)
এরপর আরেকটা সিগারেট ধরালো...

এখনো সেই আগের অবস্থা।সিগারেট যেন আজ তার কাছে মোটেও ভালো লাগছে না।রাগ করে সব সিগারেট ফেলে দিল তারেক।...

তারেক নিজেও বুঝতে পারছে না কেন আজ তার সিগারেট ভালো লাগছে না।তার কাছে তো যেকোনো সিগারেটই ভালো তবে আজ কেন ভালো লাগছে না।যাই হোক এসব ভাবতে ভাবতে তারেক বাসায় চলে আসলো।...

বাসায় এসে মোবাইল হাতে নিল...

মোবাইল হাতে নিয়ে ডুকলো Youtube এ ডুকে আজহারি ওয়াজ লিখে সার্চ করলো.

অনেক গুলো ওয়াজ পেয়ে যায় তারেক। বেশ কয়েকটা ওয়াজ ডাওনলোড দিল তারেক....

ওয়াজ গুলো যতই শুনছে তারেকের ভিতর টা কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে।কি যেন খালি খালি লাগছে তারেকের কোনো কিছু ভালো লাগছে না।

ওয়াজ শোনতে শোনতে তারেক কখন যে ঘুমিয়ে যায় নিজেও জানে না।

মধ্যে রাতে তারেক হটাৎ এক ভয়ংকর স্বপ্ন দেখতে পায়।....

স্বপ্নে,
--তারেক মারা গেছে।তারেকের মৃত্যু তে যেন এলাকায় খুশির রোল পড়ে গেছে।এলাকার সবাই একে অপরকে বলা বলি করছে,

"আজ থেকে আমরা মুক্ত আমরা স্বাধীন। আজকের পর থেকে উপর আর কেউ জুলুম করবে না,আমাদের জমি আর কেউ আত্মসাধ করতে আসবে না,আমাদেরকে আর কেউ হত্যা করতে আসবে না, আমাদের স্ত্রী-মেয়েরা আজ ইভটিজিং এর হাত থেকে মুক্ত,আজকের পর থেকে আমরা সকল প্রকার অন্যায়-অত্যাচার থেকে মুক্ত।"

কুখ্যাত খুনি,সম্যাডলার,সন্ত্রাসীর মৃত্যু তে সবাই খুশি। এলাকার কেউ নেই যে তারেকের মৃত্যুতে কষ্ট পাচ্ছে...

এমনকি যারা তারেকের সহযোগী আছে তারাও খুশি কারন তারেকের পাপের দ্বারা অর্জিত সব সম্পত্তি তারা ব্যবহার করতে পারবে।তারা নিজেরাই এখন সমাজে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে।

কেউ কেউ বলছে... এই পাপী টাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেল।একে মাটি দেওয়ার কোনো মানে হয় না।

তারেকের বিদেহি আত্মা চোখ বুজে সব সহ্য করে যাচ্ছে কিন্তু কাউকে কিছু বলতে পাচ্ছে না। তারেকের আত্মা শুধু বোবার মতো অঝরে কান্না করে যাচ্ছে।...

কিছু কিছু মানুষ বলছে সে সারাজীবন উগ্রবাদী হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে চলছে, আজকে তাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মতো পুড়িয়ে ফেলা হোক।

আবার, কেউ কেউ বলছে সে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে চলুক তবুও তো সে মুসলিম ছিল।তাকে মাটি দেওয়া হোক।

অবশেষে সিন্ধান্ত আসলো,, তারেক কে মাটি দেওয়া হবে।
তারেক কে নিয়ে গেল গোসল করানোর জন্য।কিন্তু কেউ তারেকের গোসল করানোর জন্য রাজি হতে চায় না।

অবশেষে, চার পাঁচ জন রাজি হল তারেক কে গোসল করানো জন্য।

তারা গোসল খানায় গিয়ে ইচ্ছা মতো তারেকের শরীরে আঘাত করলো আর বলতে লাগলো..
সারাজীবন আমাদেরকে জ্বালিয়েছিস।এখন মজা বুঝ। আল্লাহ যেন জীবনে কখনো তোকে জান্নাত না দেয়।

তারেকের বিদেহি আত্মা চিৎকার করছে, আর বলছে আমাকে মেরো না আমার খুব কষ্ট হচ্ছে খুব কষ্ট হচ্ছে।ভীষণ ব্যথা পাচ্ছি আমি।

কিন্তু তারেকের কান্না তো আর তারা শুনছে না।

অবশেষে টেনে হিঁচড়ে খুব কষ্ট দিয়ে তারেক কে গোসল করানো শেষ হল।

তারপর কাফন পড়ানো হল তারেক কে...

তারপর জানাজা পড়ানোর সময় কেউ তারেকের জানাজা পড়তে চাইলো না।মাত্র তিন চার জন মিলে তারেকের জানাজা শেষ করলো।...

দাফন করানোর জন্য যখন তারেক কে এলাকার সামনে দিয়ে নিয়ে আসছিল।তখন এলাকার সবাই তারেক কে ঘৃণা করতে লাগলো।....

এবার তারেক কে দাফন করার পালা...

এবারও একই অবস্থা তারেক কে দাফন করানোর জন্য কেউ নামতে চাইছে না তার কবরে।তাহলে কি আর করার আছে। দুইজন ধরে উপর থেকে তারেক কে ফেলে দিল কবরে। 

তারেক প্রচুর ব্যথা অনুভব করলো। কিন্তু কি আর করার আছে সে তো এখন মৃত্যু তার আর কোনো ক্ষমতা নেই।

তারেক কে মাটি চাপা দিয়ে সবাই  যার যার বাড়িতে ফিরে গেল।....

একটু পর কবরের ভিতর মুনকার নাকির ফেরেস্তা আসলো,,

এসে তারেক কে সওয়াল জওয়াব করলো...

তারেক কোনো প্রশ্নের উত্তর ওই দিতে পারলো না।

ফেরেস্তারাও তারেক কে লানত দিয়ে চলে গেল...

ফেরেস্তারা চলে যাওয়ার পর তারেক দেখতে পায় ভয়ংকর বড় বড় বিষধর সাপ বিচু, আগুন তারেকের দিকে ধেয়ে আসছে আর তারেক আরো লক্ষ্য করলো যে, কবরের দু পাশ টা কেমন যেন চাপা হয়ে আসছে। চাপা হতে হতে তারেকের এক পাঁজরের হার আরেক পাঁজরের হারে ডুকে যাচ্ছে।

তারেক ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অনেক জুড়ে চিৎকার দিল। চিৎকার দিয়ে বসে পড়লো তারেক...

তারপর তারেক নিজেকে বিছানার উপর আবিস্কার করলো। সে মারা যায় নি। এসব সে স্বপ্নে দেখছে।....

তারপর তারেক রান্না ঘরে গিয়ে পানি খেয়ে আসলো। পানি খেয়ে এসে তারেক এখন প্রচুর ভাবছে...
--সারাটা জীবন আমি কি করলাম?
আমি তো মৃত্যু কে ভুলেই গিয়েছিলাম।
আমি তো ভুলে গিয়েছিলাম যে আমাকেও মরতে হবে।
আমার মৃত্যুতে সবাই খুশি হয়। যাদের কে আমি খুব কাছের ভাবছিলাম তারাই আমার সবথেকে দূরের। 
এসব ভাবতে ভাবতে রাত শেষ হয়ে যায়।তারেক ও স্বপ্নটা ভুলে যায়।

সকাল ১০টায় তারেকের বসে ফোন করলো..

--হেলো বস।
--তারেক তুমি কোথায় আছো?
--এইতো বস আমি বাসাতেই আছি।
--একটু আমার চেম্বারে আসো তো?
--ওকে বস আসতেছি।
তারেক বসের সাথে দেখা করার জন্য চেম্বারে গেল।
--বস ডাকছেন আমায়?
-- হুম
-- কি দরকার?
--দরকার ছাড়া কি আর তোমাকে ডাকি?
--বলে ফেলুন কি দরকার?
--নতুন একটা কাজ আসছে।এই কাজ টা করতে পারলে সারাজীবন বসে খেতে পারবা।
--কি কাজ?
খুন নাকি ধর্ষণ?
--খুন।
--ওকে বস
 ছবি আর লোকেশন দেন ক্লাইন্টের?
--কাজ টা খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।
--ওই নিয়ে বস আপনার চিন্তা করা লাগবে না।

তারেক ছবি টা না দেখেই লোকেশন নিয়ে চলে গেল খুন করতে.....

তারেক যখন শুট করবে তখন দেখে এই লোক ও একজন হুজুর।তখন তারেক তাড়াতাড়ি করে হাতের পিক টার দিকে তাকালো...
কি সোন্দর চেহেরা, মুখে কুচ কুচে গাল ভর্তি কালো দাঁড়ি,মাথায় টুপি। তারেক পিকটা দেখে যেন হুজুরের প্রেমে পড়ে গেল....
মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে!! 
চলবে.....

গল্পটা আপনার সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে শেয়ার করুন।ইনশাআল্লাহ আগামী কাল আমাদের পোর্টালে ধর্ষিতা যখন বউ গল্পের ২য় পর্ব পাবেন।এভাবেই প্রতিদিন আমরা আমাদের ওয়েব সাইটে সম্পূর্ণ গল্পটি শেয়ার করবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন