সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের দুয়ার সকলের জন্য খোলা : সচিব - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের দুয়ার সকলের জন্য খোলা : সচিব

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে শুধু সরকারি কর্মচারীরা নয়, সবাই চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন। তিনি বলেন, সকলের জন্য আমাদের হাসপাতালের দুয়ার খোলা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভাগের এন-৯৫ মাস্ক ও একটি হাই-ফ্লো ন্যাসাল ক্যানোলা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন সচিব এ কথা জানান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শেখ ইউসুফ হারুনের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব সুলতান আহমেদ।

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী হাসপাতালটি ছিল ১৫০ বেডের। যখন কোভিড শুরু হলো তখন এটিকে ৭২ বেডের কোভিড হাসপাতালে পরিণত করলাম। এখানে কোনো সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট ছিল না। আমরা এখানে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ইউনিট করি। এখানে ছয়টি আইসিইউ রয়েছে। অন্যান্য চাহিদাও আমরা পূরণের চেষ্টা করি। এরমধ্যে রয়েছে পিসিআর মেশিন। আমরা জনপ্রশাসন থেকে একটি পিসিআর মেশিন ক্রয় করি। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে টেকনিশিয়াল ও আরও কিছু লোকবল পাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, ঢাকা শহরে যতগুলো হাসপাতাল রয়েছে সরকারি বলেন আর বেসরকারি বলেন, দু-একটি হাসপাতাল ছাড়া আমি মনে করি আমাদের সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা অনেক ভালো। দু-একজন ব্যক্তি যারা আমাদের এখানে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন তারা বাইরে গিয়ে আমাদের এত প্রশংসা করেছেন। আমাদের ডাক্তাররা মোটিভেটড। আমরা ডাক্তারদের বলেছি আপনারা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করবেন। তারা সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করেছেন।’

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তাররা মাসে কাজ করে মাত্র ৭ দিন। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, তারা এখানে ১৫ দিন কাজ করেছে। যেহেতু আমাদের ডাক্তারের সংখ্যা কম।’

জনপ্রশাসন সচিব বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে আমরা সর্বোচ্চ রোগী পেয়েছি ৪৫ জন। আজ রোগীর সংখ্যা ৪০ জন। আমাদের এখানে মাত্র ৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।’

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে দেয়া খাবার অন্য যেকোনো হাসপাতালের চেয়ে উন্নত জানিয়ে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘এটিকে ৫০০ বেডের ১৬তলা হাসপাতালে পরিণত করার জন্য একনেক অনুমোদন দিয়েছে। ব্যয় হবে ৩৮০ কোটি টাকা। সেই কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা শহরের সবচেয়ে ভালো ভালো যে হাসপাতাল ওই পর্যায়ে আমরা উন্নীত করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘অনেকের হয়তো ধারণা থাকতে পারে এটি (সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল) কি কেবল সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তা কিন্তু নয়। আমরা নাম দিয়েছি সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, এখানে সরকারি কর্মচারীদের প্রায়োরিটি দেয়া হবে। এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে আমরা অন্যান্য ব্যক্তি ও সম্মানিত নাগরিকদের আমরা এখানে সেবা প্রদান করি না। সকলের জন্য আমাদের হাসপাতালের দুয়ার খোলা।’

জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, ‘আর বিশেষ করে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি কর্মচারীদেরও বেশি প্রায়োরিটি দেই। আমি মনে করি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালটিকে অদূর ভবিষ্যতে চমৎকার ও গুণগতমানসম্পন্ন হাসপাতালে পরিণত করব। সেই অঙ্গীকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণায়ের রয়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন