গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতিপয় সমস্যার সমাধান চাই - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতিপয় সমস্যার সমাধান চাই


মোঃ আলী আহমেদ,সমাজকর্মী:
প্রকৃতির কূলে আশ্রিত গ্রামের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে- যা শুধু উপলব্ধি করা যায়, সমাধানের পথ দীর্ঘ। একসময় গোলা ভরা ধান গোয়াল ভরা গরু পুকুর ভরা মাছ ইত্যাদি বিষয়গুলো ছিল যা এখন গল্প, কবিতা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলার সবুজ শ্যামল রূপ বা বাংলাদেশ  বলতে যে শ্যামলিমা বুঝায় সেখানেও এ রকম নানা রকম সমস্যা বিরাজ করছে।
যা আগেও ছিল, কিন্তু উদাহরণ দেওয়ার মতো ছিল না। কিছু কিছু সমস্যা বর্তমানে দৃশ্যমান যা গ্রামের মানুষের ভালো থাকার জন্য যথেষ্ট নয়, এই সব সমস্যার উদাহরণ এখন গ্রামের মানুষের জীবনে অদৃশ্য ছায়ার রূপ। গ্রামে বসবাসরত মানুষের বেশিরভাগই রোগবালাই ও করোনার মত মহামারীর ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান ও সচেতনতায় অজ্ঞ রয়েছে। তাদের মাঝে সচেতনতার ছিটেফোঁটাও পরিলক্ষিত হয় না। 

বাইরে বের হলে মাস্ক পরা কিংবা নিয়মিত হাত ধোঁয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হলেও তারা তা মানছেন না, অনেকক্ষেত্রে তাদের কাঙ্ক্ষিত সচেতনতার অভাব দেখা দিয়েছে অভাব অনটনের কারনেই। 
ফলে দিনে দিনে গ্রামে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা  সংক্রমণের ঝুঁকি। করোনা মহামারীর কারণে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট গ্রামের মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে মারাত্মকভাব। দিন আনে দিন খায় মানুষেরা কর্মশুন্য হয়ে পড়ছে। বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিওগুলো গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ালেও সেই এনজিওগুলো গ্রামের মানুষের শোষণের অন্য এক হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
এনজিও সমূহ যে পরিমাণ ঋণ দিচ্ছে সেই টাকা দিয়ে বর্তমানে লোকেরা তাদের কাঙ্ক্ষিত কর্মের বা ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করতে পারছে না। 
তাই, কিস্তি নামক উচ্চ সুদের বোজা গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার বহণ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। 
এবং দিচ্ছে কিছু এনজিও , প্রতি হাজারে মাসিক ১০০ -৩০০ পর্যন্ত এককালীন সুদ মানুষের জীবন এলোমেলো করে দিচ্ছে। অনেকেই এই ঋণের বুজা বইতে না পেরে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলছে। তাদের অনেকেই ভিটেমাটি বিক্রি করে ঋণ সুদ করছে।   

বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ বিচার সালিশগুলোও এক বা একাধিক  ব্যক্তির মাধ্যমে সমাধান হচ্ছে। আগের যুগে ব্যাপারটা ছিল বিচারক অনেকজনের মত নিয়ে বিচার প্রকৃয়া চলত। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া যেত।
   
বর্তমান সময়ে ন্যায়-বিচার তো দূরের কথা বিচার প্রার্থীকে উল্টো জরিমানা দিতে হচ্ছে। আবার, যার টাকা আছে, প্রভাব প্রতিপত্তি আছে সে অর্থের জোর খাটিয়ে অন্যায়কে ন্যায়ে রুপান্তর করছে এই ঘুষখোর বিচারকদের মাধ্যমে। এই অবস্থা প্রায় প্রতিটি গ্রামে।  

কথায় কথায় অশ্লীল শব্দের ব্যবহার যেন গ্রামের লোকদের নিকট প্রায় শ্বাস-প্রশ্বাসের মতই এক স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কোনো একটা বাক্যে অশ্রাব্য শব্দ প্রয়োগে ব্যর্থ হলে মনে হয় তার বলা কথাটা বুঝি পূর্ণতা পেল না।

তাদের এই উক্তিগুলো শুনে শিশুরাও হয়ে ওঠছে গালিবাজ। খেলায় বনিবনা না হলে বড়দের থেকে শেখা অরুচি সমৃদ্ধ শব্দ ব্যবহার করে খেলার সাথীদের আক্রমণ করে শিশুরা।

গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভালো শিক্ষক নিয়োগ না পাওয়ায় আধুনিক শিক্ষা উপকরণ থাকা সত্বেও সেগুলোর ব্যবহার ছাত্রছাত্রীরা শিখতে পারছেনা।  ফলে তাদের কাঙ্ক্ষিত জ্ঞানের প্রসার হচ্ছে না । 
গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের যুগে পিছিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন