২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়ারও : তথ্যমন্ত্রী - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়ারও : তথ্যমন্ত্রী


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারেই হয়েছে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় বেগম খালেদা জিয়ারও রয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে’ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে প্রাণ হারানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান, পাশাপাশি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম জিয়া দেশের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রীর (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিরাপত্তা বিধান করতে পারেননি, সেই দায় তিনি এড়াতে পারেন না, তার জ্ঞাতসারেই এটা হয়েছে এবং এই হামলার বিচারকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তখন যা কিছু করা হয়েছে, সবকিছুর দায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার ওপর বর্তায়। অর্থাৎ তিনিও এই অভিযোগে অভিযুক্ত বিধায় পরিপূর্ণ বিচারের জন্য তাকেও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।

১৬ বছর আগে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পাহারায় বাধা দিয়ে, গ্রেনেড হামলা করে নিহত-আহতদের উদ্ধারে ও চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা স্মরণ করে সেই হামলায় আহত সাক্ষী হিসেবে ড. হাছান বলেন, এই গ্রেনেড হামলা শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেই একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। সমসাময়িক বিশ্বে আর কোথাও সংসদের বিরোধী দলের নেতা যেখানে বক্তব্য রাখছেন, সেখানে এরকম গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে?

‘হত্যা-খুনই বিএনপির রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য’ মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা নিষ্কণ্টক রাখতে সেনাবাহিনীর শত শত জওয়ানকে হত্যা করেন। বেগম জিয়াও একইপথ অনুসরণ করেন। বিএনপি আমলে শাহ এএমএস কিবরিয়া, আহসানউল্লাহ মাস্টার, মমতাজ উদ্দীন, মঞ্জুরুল ইমামকে জনসভার মধ্যে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হেলাল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ওপর হামলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়াসে এবং খায়েশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এসব হামলা পরিচালিত হয়।

এসব কারণেই কানাডার আদালত বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে রায় দিয়েছে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবেও বিএনপি একটা সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃত বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকাল বিএনপি নেতারা অনেকে অনেক কথা বলেছেন। সেগুলো সবই ‘ঠাকুর ঘরে কে রে! আমি কলা খাই না’ ধরনের কথা। তাদের উচিত এই ঘৃণ্য হামলার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাহলে হয়তো জনবিচ্ছিন্ন বিএনপিকে আবার জনগণ কাছে নিলেও নিতে পারে।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জাকির আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদত হোসেন টয়েলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, এম এ করিম, আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী, স্বাধীনতা পরিষদ সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন