‘বাতিঘরের’ বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২০

‘বাতিঘরের’ বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
দেশে বহুল পরিচিত বই বিপণী ও প্রকাশনা সংস্থা ‘বাতিঘরের’ স্বত্ত্বাধিকারীর বিরুদ্ধে ‘ধর্মানূভুতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের একটি আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে।

‘লোশক’ নামে একটি বই প্রকাশের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রূপায়ন কান্তি চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি মানহানির এই মামলার দায়ের করেন।

মামলায় লোশকের ‘প্রকাশক’ হিসেবে বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাশ এবং লেখক সালেহ আহমেদ মুবিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ভুল অভিযোগে মামলা দায়ের করে বাতিঘরের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ এনে পাল্টা মানহানির মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন বাতিঘরের স্বত্ত্বাধিকারী দীপংকর দাশ।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আমীনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) আদালত মামলার আরজি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আরজিতে বাদী অভিযোগ করেছেন, সালেহ আহমেদ মুবিন ‘লোশক’ নামে একটি বইয়ের লেখক। বইটিতে বৌদ্ধ ধর্ম এবং এর প্রবর্তক ও প্রচারক গৌতম বুদ্ধের বিরুদ্ধে মানহানিকর বিভিন্ন বক্তব্য আছে। একই বইয়ে বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস বিকৃত করে কল্পকাহিনি লেখা হয়েছে।

এর মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-আচরণকারীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং ১০ কোটি টাকার ‘মানসম্মানের ক্ষতি’ হয়েছে বলে বাদি আরজিতে উল্লেখ করেছেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ৩০ দিনের মধ্যে মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী প্রতীত বড়ুয়া জানান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করে বই লেখা ও তা প্রচার করার অভিযোগে গত ১২ আগস্ট একটি মামলা করা হয়। মামলাটির উপর আজকে শুনানি হয়। শুনানির একপর্যায়ে আদালত মামলাটি আমলে নেন এবং পিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পিবিআই এ বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেবে।

এ বিষয়ে বাতিঘরের স্বত্বাধিকারী দীপংকর দাশ বলেন, ‘মামলায় বলা হয়েছে আমি বইটির প্রকাশক। কিন্তু লোশক বইটি বাতিঘর থেকে প্রকাশিত নয়। শুধুমাত্র বিক্রির জন্য রেখেছিলাম এবং পাঠকদের জন্য ফেসবুক পেইজে একটি রিভিউ দিয়েছিলাম। এ বিষয়ে আলোচনা ওঠায় আমরা ওই রিভিউটি সরিয়ে নিয়েছি। বইটিও বিক্রি করছি না। অর্থাৎ ভুল তথ্য দিয়ে মামলা করে বাতিঘরের সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এতে আমাদের যে মানহানি হয়েছে সেজন্য আমরাও মানহানির মামলা করার কথা ভাবছি।’

এর আগে ‘লোশক’ বইটি বিক্রয়ের জন্য ১০ আগস্ট ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে একজন পাঠকের দেয়া একটি বুক রিভিউ জুড়ে দেয় বাতিঘর। সে পোস্ট দেওয়ার পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ায় পোস্টটি সরিয়ে নেয়ার পর দুঃখ প্রকাশও করে বাতিঘর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন