বন্ধ দলই চা বাগান, ব্যক্তিক্রমী গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

বন্ধ দলই চা বাগান, ব্যক্তিক্রমী গানের মাধ্যমে প্রতিবাদ

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি:
কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন একমাস ধরে বন্ধ থাকা দলই চা বাগানে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সহমর্মিতা ও দাবী আদায়ে ব্যক্তিক্রমী সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়েছে।

২৯ আগস্ট শনিবার দিনব্যাপী দলই চা বাগান মন্ডপে প্রতিবাদী এই গানের অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। হবগিঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দেওন্দি চা বাগানের প্রতীক থিয়েটার ও প্রতীক লিটল থিয়েটারের আয়োজনে চা শ্রমিক সন্তান শিল্পীরা চা শ্রমিকের গান, গণ সঙ্গিত, কবিতা আবৃত্তি করেন। ব্যতিক্রমী এই প্রতিবাদী অনুষ্ঠানে চা বাগানের নারী পুরুষরা উপভোগ করেন।

প্রতীক থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বিশ্বাস জানান, দলই চা বাগান বন্ধ থাকায় চা বাগানের আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও তাদের দাবী আদায়ে চা শ্রমিকদের গান নিয়ে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়েছে। এতে শ্রমিকদের উৎসাহ ও শক্তি যোগাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু ও  নারী শ্রমিক খোদেজা বেগম বলেন, চা বাগানটি গত একমাস থেকে বন্ধ। তাই আমরা প্রথম থেকে আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানে কাজ করতে যায় পরিবার চালানোর আশায় কিন্তু প্রথমে অগোচরে কাজ পেয়েছিলাম। তবে পরে চা বাগান কতৃপক্ষ বিষয়টি জেনে সবাইকে না করে দেয়। এরপর থেকে কেউ আমাদের কাজ দেয় না। এখন আমরা নিরুপায়। এখন আমরা একঘরে। চা শ্রমিক নমি কুর্মী জানান, আমাদের চা বাগানের পাশেই ভারতের তারের বেড়া ও বীরশেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ। তাই এই বাগানে নেটওয়ার্ক নেই।মৌলভীবাজার জেলাশহর থেকে প্রায় ৫০ কি:মি: দুরে। আমাদের বাগানের পাশেই পাত্রখোলা চাবাগান, চাম্পারায় চা বাগান, শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগান। সেই চা বাগানে প্রায় শ্রমিক লাগে তখন আমরা যায়।

অথচ গত ২৫ দিন থেকে আমাদের কেউ কাজে নিতে চাই না। শুধু বলে কাজে নিলে করোনা ছড়াবে। দলই চা বাগানের নাম শুনলেই বলছে কাজ নেই। চা শ্রমিক আশ্রামা মান্দ্রাজি বলেন, গতকাল আন্দোলন থেকে এসে পানি ভাত খেয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত আর ভাত খায়নি। লবন দিয়ে লাল চা খেয়েই আছি। আমার পরিবারের মানুষজন বড় অসহায়। তিনি বলেন, শুধু আমরা না স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে হাজার খানিক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের একই অবস্থা।

দলই চা বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সম্পাদক সেতু রায় বলেন, বেআইনি ও উস্কানিমূলক নোটিশ প্রত্যাহার সহ দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে দলই চা বাগান চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের আন্দোলন।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক চা বাগানের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমাদের শ্রমিক দরকার তবে দলই কর্তৃপক্ষ না বলাতে আমরা বাইরের কোন শ্রমিক কাজে নিচ্ছি না।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দলই চা বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকরা মিথ্যাচার করছে। এটা সম্পর্র্ণ মিথ্যা কথা। তিনি বলেন, দলই চা বাগানের বিষয়ে আজ বিকালে মিটিং আছে।

উল্লেখ্য, ২৭ জুলাই শ্রমিকদের উপর দায় চাপিয়ে আকস্মিকভাবে দলই চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। এনিয়ে চা বাগান শ্রমিক, প্রশাসন ও মালিক পক্ষের মধ্যে কয়েকদফা বৈঠক বসার পরও চা শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাগান চালু হতে পারেনি। ফলে চা বাগান ব্যবস্থাপককে অপসারণ, মালিক পক্ষের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন