কাজে ভুল হলেই গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, পালিয়ে বাঁচলো আশা - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

কাজে ভুল হলেই গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, পালিয়ে বাঁচলো আশা


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
বরিশাল নগরীর দক্ষিণ আলেকান্দা রিফিউজি কলোনী সড়কের একটি ফ্ল্যাট বাসায় খুন্তির ছ্যাঁকা ও লোহার রড দিয়ে আশা (১৩) নামে এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাস দম্পতির বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পাশাপাশি শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দুপুরে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার আশা নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন সড়কের ডেভিড বিশ্বাসের মেয়ে।

আশা জানায়, প্রায় দুই বছর আগে তাকে রিফিউজি কলোনী সড়কের বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাসের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেন তার বাবা। প্রথম প্রথম তারা ভালো ব্যবহার করতেন। কয়েকদিন পর তার ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন চালাতে শুরু করেন বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাস। সব সময় বাসায় আটকে রাখা হতো তাকে। কাজে একটু ভুল হলেই গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে মারধর করা হতো। ক্ষুধার কথা বললে পচা ও বাসি খাবার দেয়া হতো।

আশা বলে, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে কৌশলে দরজা খুলে পালিয়ে পাশের একটি বাসায় আশ্রয় নিই। আশপাশের লোকজন থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে।

নির্যাতনের শিকার আশার বাবা ডেভিড বিশ্বাস বলেন, প্রায় দুই বছর আগে বুলবুল বিশ্বাসের বাসায় মেয়েকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দিয়েছিলাম। তখন বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাস বলেছিলেন নিজ সন্তানের মত আশাকে দেখে রাখবেন। ভালো খাবার দেবেন। পরে মারধরের কথা শুনে একাধিকবার মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। বুলবুল বিশ্বাসের পরিবার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়নি। উল্টো মেয়ে ও আমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেয়ার হুমকি দিত। অসহায়ের মত ফিরে আসতাম।

তিনি জানান, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও নির্যাতনের পর হত্যার হুমকি দিয়ে তার মেয়েকে বাসায় আটকে রাখা হয়। তার চিকিৎসাও করাননি তারা। এমনকি কোনো ওষুধও খেতে দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মেয়ে বুলবুল বিশ্বাসের বাসা থেকে পালিয়ে আসে।

নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্ত বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাসকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তারা পুলিশের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আগেই বাসা থেকে পালিয়ে যান। এ সময় বকুল বিশ্বাসের পরিবারের এক সদস্য সায়মন কুন্ডল বিশ্বাস নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, কাজে সামান্য ভুল বা দেরি করলে আশার ওপর চালানো হতো অমানবিক নির্যাতন। গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো। লোহার রড দিয়ে পেটানো হতো। ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। বুলবুল বিশ্বাস ও বকুল বিশ্বাস দম্পতির নির্যাতনে গালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে শিশুটির। পালাতে যেন না পারে সেজন্য শিশুটিকে আটকে রাখা হতো বাসায়।

তিনি বলেন, আশার বাবা ভয়ে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। কোতোয়ালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন বাদী হয়ে অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন