কুলাউড়ায় পানি সংকটে ভোগান্তিতে আড়াইশত পরিবার - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২০

কুলাউড়ায় পানি সংকটে ভোগান্তিতে আড়াইশত পরিবার


কুলাউড়া প্রতিনিধি:
প্রায় এক মাস যাবৎ পানির সংকটে পড়েছেন কুলাউড়া পৌর এলাকার রেল কলোনীর বাসিন্দারা। প্রায় আড়াইশত পরিবারের আবাসস্থল এই কলোনীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে পানি নেই। এতে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন এখানকার শিশু, বৃদ্ধ মহিলা। এদিকে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, ডিপ টিউবওয়েলের পানির স্তর নিচে নেমে আসায় পানি উঠছে না। নতুন ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের আগে এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে জানান তারা।

স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পানির পাম্প নষ্ট থাকায় পানি সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হচ্ছে না। আর নষ্ট পাম্প সচল করতে কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা। তাই পানি না পেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে দিন পার করছেন তারা। তাদের দাবি, গোসল করা তো দূরের কথা, কুয়োর অস্বাস্থ্যকর পানি তুলে রান্নার কাজ সারছেন মহিলারা। এবিষয়ে বারংবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা পাচ্ছেন না তারা। প্রায় এক মাস হতে চললেও এর সমাধান হয় নি।

জানা যায়, প্রায় আড়াই’শ পরিবারের সদস্য কলোনি এলাকায় বাস করছেন। কলোনি এলাকার কোথাও সুপেয় পানি না পেয়ে এলাকার একমাত্র আশ্রয়স্থল রেলওয়ে জামে মসজিদ ও জুনিয়র হাইস্কুল এলাকায় স্থাপিত দু’টি ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। রেল কলোনি এলাকায় নির্ধারিত ট্যাংক থেকে প্রতিদিন দুইবার কলোনি এলাকার মানুষের মাঝে পানি সরবরাহ করা হতো। তাও আবার চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। কিন্তু গত প্রায় ১ মাস যাবৎ পাম্প নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানকার মানুষ পানির জন্য দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কুলাউড়া রেলওয়ে জুনিয়র হাইস্কুলে অবস্থিত ডিপ টিউবওয়েলের পানির জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বালতি, ড্রামসহ বিভিন্ন ধরনের পাত্র নিয়ে পানি সংগ্রহ করছেন। পানির সংকটের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন গৃহিণীরা। রান্নার কাজসহ শিশুদের নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মায়েরা। তাছড়া কলোনি এলাকায় একটি কুয়া থেকে কলস দিয়ে নোংরা পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে একজন মহিলাকে।

প্রচন্ড তাপদাহে পানির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে পানি সংকটে দৈনন্দিন জরুরি কাজও ঠিকমতো করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এ অবস্থায় কেউ কেউ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছেন। কেউ কুয়োর পানি কিংবা পুকুরের নোংরা পানি দিয়েই রান্না, গোসলসহ ধোয়া-মুছার কাজ সারছেন।

স্থানীয়রা দাবি করছেন, কুয়া কিংবা পুকুরের নোংরা পানি ব্যবহার করায় এলাকায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তুলে ধরলেও কোন সুরাহা মিলছে না বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের কর্মরত একজন স্টাফ জানান, কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে ১ মাসের উপরে পর্যাপ্ত পানির অভাবে দিন পার করতে হচ্ছে। পানির পাম্প নষ্ট (বিকল) হওয়ার পর কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। সারাদিনে একবার পানি সরবরাহ করলে ১ কলস পানিও তুলতে পারি না। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। কলোনি এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

কলোনী এলাকার ভাড়াটিয়া জাহাঙ্গীর আলম জানান, অসচ্ছল পরিবার যাদের পানির পাম্প কেনার সামর্থ নেই তাদের বেশিরভাগ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে খাওয়া ও রান্নার পানি সংগ্রহ করছেন। এদিকে সংগৃহীত পানিও পর্যাপ্ত পরিমাণে নয় বলে জানিয়েছেন এলাকার অনেকেই।

কুলাউড়া জংশন রেল স্টেশনের মাস্টার মুহিব উদ্দিন আহমদ জানান, ডিপ টিউবওয়েলের পানির স্তর নিচে নেমে আসায় পানি উঠছে না। নতুন আরেকটি ডিপ টিউবওয়েল না বসানো পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধান হচ্ছেনা বলেও তিনি জানান। তিনি আরো জানান, কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন ও কলোনীতে নিরবিচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ চেয়ে গত ১ আগস্ট সিলেট এসএস ইলেক. ও কুলাউড়া এসএসই ওয়ার্কস বরাবরে আবেদন করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রামস্থ এসএসএই/সেতু/নলকূপ ও পরিদর্শনকে কুলাউড়া স্টেশনে নতুন একটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের অনুরোধ করেন রেলওয়ের সিলেটস্থ ঊর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী আসাফ উদ দৌলা। মুহিব উদ্দিন জানান, পানি সংকটের কারণে কলোনির অবৈধ লাইনগুলোও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জুয়েল হোসেন বলেন, পানির পাম্প মেরামত ও পানি সরবরাহ আমার বিভাগের কাজ নয়। তাই আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। ইলেকট্রিক, ইঞ্জিনিয়ার ও পানি সরবরাহ বিভাগ এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে বলেও তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন