আয়-ব্যয় দুটোই কমেছে বিএনপির - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

আয়-ব্যয় দুটোই কমেছে বিএনপির


সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক:
গত পঞ্জিকা বছরে (২০১৯) সভা-সমাবেশ এবং নির্বাচন বাবদ কোনো ব্যয় নেই বলে নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে বিএনপি। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন দিবস পালন ও সেমিনার/ওয়ার্কশপ বাবদ দলের ব্যয় রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দলের ২০১৯ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপি। ইসি সচিব মো. আলমগীরের কাছে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সেই হিসাব পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে দলের স্টাফদের বেতন-ভাতা খাতে পাঁচ লক্ষাধিক এবং ইউটিলিটি বিল বাবদ ৬০ হাজারের মতো টাকা বকেয়া রয়েছে বলে হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব (অডিট রিপোর্ট) নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অবশ্য কোনো দল চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগে ইসিতে আবেদন করে সময় বাড়াতে পারে। এ হিসাবে বিএনপি ইসির কাছে একমাস সময় চেয়েছিল।

দলের হিসাব অনুযায়ী তাদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর আগের বছর যেখানে দলের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো। এবার আয় হয়েছে সেখানে এক কোটিরও কম। অর্থাৎ ২০১৮ সালের দশ ভাগের একভাগও আয় ২০১৯ সালে করতে পারেনি বিএনপি। অবশ্য ২০১৮ সালে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বছর দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করে বিএনপির বড় পরিমাণে আয় করেছিল।

২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির আয় ছিল ৮৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১০ টাকা। সেখানে দলের ব্যয় হয়েছে দুই কাটি ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা। এ বছর দলটির ঘাটতি হয়েছে এক কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ টাকা। অবশ্য ব্যয়ের মধ্যে ২০১৮ সালের কিছু খাতের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। এর আগের বছর (২০১৮) দলটির আয় ছিল ৯ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮০ টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ১৪৩ টাকা।

২০১৯ সালে বিএনপির দুই কোটি ৬৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৭ টাকা ব্যয়ের মধ্যে কর্মচারীদের বেতন বোনাস বাবদ ব্যয় করে ৭৫ লাখ ৬ হাজার ১০৭ টাকা। এ খাতে পূর্বের বকেয়া পরিশোধ করেছে তিন লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকা। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ এখনো দলটির বকেয়া রয়েছে পাঁচ লাখ ১৪ হাজার ৯৫০ টাকা।

এ বছর আসবাবপত্র ও প্রশাসনিক খরচ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৬ টাকা। টেলিফোন, ইন্টারনেট, কুরিয়ার সার্ভিস ও পত্রিকা বিল বাবদ ব্যয় হয়েছে সাত লাখ ১০ হাজার ১৩৭ টাকা। এ খাতে পূর্বের বকেয়া পরিশোধ করেছে ২৯ হাজার ৯২২ টাকা। বকেয়া রয়েছে ২৮ হাজার ১২৪ টাকা।

ইসিতে জমা দেয়া হিসাব অনুযায়ী বিএনপির পথসভা/জনসভা/ঘরোয়া বৈঠক এবং নির্বাচন বাবদ কোনো ব্যয় হয়নি। ব্যয় নেই জাতীয় সম্মেলন বাবদও। তবে দলের প্রচারণা/পরিবহন বাবদ ২১ লাখ ৮০ হাজার ২০০, সাংগঠনিক কার্যক্রম বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৫, বিজ্ঞাপন বাবদ ১৮ লাখ ৩০ হাজার, প্রকাশনা বাবদ আট লাখ ১২ হাজার ৭৮৪, জাতীয় ও বিভিন্ন দিবস উদযাপন বাবদ ২১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০, ত্রাণ কার্যক্রম বাবদ ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ৭২৯, যাতায়াত বাবদ এক লাখ ৩ হাজার ৩৬৭, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বাবদ ২২ লাখ ৪১ হাজার ৬৪০, সেমিনার ওয়ার্কশপ বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার, আপ্যায়ন আট লাখ ৬১ হাজার ৫৬৫, স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদ ক্রয় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৬৯১, মেরামত ও সরবরাহ খাতে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৩৫ এবং অন্যান্য ব্যয় হয়েছে সাত লাখ ১০ হাজার ৩২৮ টাকা।

এর আগে ২০১৭ সালে বিএনপির আয় হয় ৯ কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা। আর ব্যয় হয় ৪ কোটি ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ টাকা। ওই বছর পাঁচ কোটি ২৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৪৮ টাকা তাদের উদ্বৃত্ত ছিল।

২০১৬ সালে দলটির আয় হয়েছিল চার কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৭৩০ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫২ টাকা। উদ্বৃত্ত ছিল ১৪ লাখ ৪ হাজার ৭৭৮ টাকা।

২০১৫ সালের দাখিল করা আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিএনপি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা ঘাটতিতে ছিল। ওই বছর দলটির আয় ছিল এক কোটি ৭৩ লাখ তিন হাজার ৩৬৫ টাকা। আর ব্যয় এক কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন