৫০ বছর রাজনীতির মাঠে থাকা সুজন চসিকের নতুন প্রশাসক - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

৫০ বছর রাজনীতির মাঠে থাকা সুজন চসিকের নতুন প্রশাসক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট ) স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। একই সাথে আগামী ৫ আগস্টই আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন পরিষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এখনও মাঠে থাকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই সৈনিক সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে এক প্রতিক্রিয়ায় খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ৫০ বছর ধরে রাজনীতির মাঠে আছি। দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মর্যাদা আমি রক্ষা করবো।  এ সময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক পদে আসার জন্য কোনও চেষ্টা-তদবির করেননি বলে মন্তব্য করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।

মঙ্গলবার দুপুরে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি এখনও অফিসিয়ালি চিঠি পাইনি। বুধবার (৫ আগষ্ট ) পর্যন্ত বর্তমান মেয়র দায়িত্বে আছেন। ৬ আগস্ট আমি দায়িত্ব নেবো। সিনিয়র সিটিজেন, প্রাক্তন মেয়রসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে এই শহরকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়তে কাজ করবো।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম শহরের প্রধান সমস্যা যানজট, ভাঙ্গা রাস্তা। এ ব্যাপারে নজর দেবো। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আপগ্রেড করবো। হকারদের শৃঙ্খলায় আনতেও বিশেষ পরিকল্পনা আছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের মেয়াদ শেষ। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হচ্ছে না নির্বাচন। তাই আইন অনুযায়ী মেয়রের চেয়ারে বসে অন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন এই প্রশাসক। এতোদিন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার মেয়াদ শেষের একদিন আগেই প্রশাসক নিয়োগ দিলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ২৫ (১) ধারায় বলা আছে, সিটি কর্পোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হলে সরকার সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে। একই আইনের ২৫ (২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজনবোধে যথাযথ বলে বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়তার জন্য নিয়োগ করতে পারবে। আর ২৫ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যরা যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা প্রকোপের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা স্থগিত ঘোষণা করে। আজ ৫ আগস্ট শেষ হতে যাচ্ছে চসিকের বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছিরের মেয়াদকাল। এবারের নির্বাচনে নাছিরের জায়গায় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে লড়তে যাচ্ছেন নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

জানা গেছে, খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে মহসীন কলেজ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সায়েন্সে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম আবদুল মান্নানসহ ছাত্রনেতারা মিলে গঠন করেন সংগ্রাম কমিটি। তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেন সুজন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি বাহিনী জালালাবাদ পাহাড় আক্রমণ করার পর আহত বাঙালি সৈন্যদের সেবা দেন সুজন সহ সহকর্মীরা। বিহারীরা তাকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করলেও এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রাণে রক্ষা পান। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে সোচ্চার ছিলেন খোরশেদ আলম সুজন।

১৯৯০-৯৮ সালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সংগঠনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন সুজন। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অবরোধসহ অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সুজন।

৬২’র ঘরে পৌঁছানো এই রাজনীতিক এমপি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীও ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত বঞ্চিত হন। করোনাকালেও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব আিছেন সুজন। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, বেসরকারি হাসপাতালে অস্বাভাবিক বিল আদায় বন্ধ করা, সরকারি ত্রাণের চাল চুরিতে জড়িতদের ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আলোচনায় ছিলেন খোরশেদ আলম সুজন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন