বড়লেখায় গ্যাসলাইনে অগ্নিকাণ্ড, ঠিকাদার বলছেন ‘দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই’ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০

বড়লেখায় গ্যাসলাইনে অগ্নিকাণ্ড, ঠিকাদার বলছেন ‘দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই’

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গ্যাসের পাইপ লাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাসের পাইপে ছিদ্র থেকে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ও রাতে দুই দফায় মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের পশ্চিম হাতলিয়া নামক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। রাত থেকে পুরো উপজেলায় গ্যাস সরবরারহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস লাইনের কাজ চলে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হয়।

এদিকে এই দুর্ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও খুঁটি কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেশ ইঞ্জিনিয়ার্সকে দায়ী করছে জালালাবাদ গ্যাসের স্থানীয় কার্যালয়। গ্যাস সরবরাহ পাইপ লাইনের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি পোতায় লাইনে ছিদ্র হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে বলে জালালাবাদ গ্যাস সূত্রে জানা গেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেশ ইঞ্জিনিয়ার্সের সাব ঠিকাদার গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে বলছেন, ‘মাটির নিচের জিনিস না দেখা গেলে কি করা। এতদিন গ্যাসের লোকজনও আমাদের বাধা দেয়নি। একটা দুর্ঘটনা ঘটলে কি করা; দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই।’

জালালাবাদ গ্যাস, পল্লী বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের পশ্চিম হাতলিয়া নামক স্থানে গ্যাসের পাইপ লাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে লাইনের ওপরে থাকা ৩৩ হাজার ভোল্টের নতুন বিদ্যুৎ সঞ্চালন খুঁটিতে আগুন ধরে ইনসুলেটর নষ্ট হয়ে কয়েকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। প্রাথমিকভাবে কাজ করে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আবার একই স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস আবারও গিয়ে আগুন নেভায়। রাত ২টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বৃহস্পতিবার রাত ১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন প্রায় দুই সহস্রাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক। বিনা নোটিশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করায় প্রায় দুই শতাধিক বাণিজ্যিক গ্যাস গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে বড়লেখা পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের থেকে মার্চ পর্যন্ত পুরাতন লাইনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালনের নতুন ডাবল লাইন ও খুঁটির কাজ হয়। এসময় হাসতালিয়া এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উচ্চ চাপের একটি গ্যাস সরবরাহ পাইপ লাইনের ওপর বিদ্যুতের নতুন খুঁটি পোতায় পাইপ ছিদ্র হয়। এতে গ্যাস নির্গত হয়ে ওপরে উঠতে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপ লাইনে ছিদ্র ছিল। সেখানে দিয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার গ্যাস নির্গত হয়ে খুঁটির ওপরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও লাইন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে আরও কয়েকটি স্থানে গ্যাস লাইনের ওপর খুঁটি পড়েছে বলে জানা গেছে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) এর বড়লেখা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘গ্যাসের লাইনটি ২০ থেকে ২৫ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে আরইবি এদিকে আরেকটা নতুন লাইন করে। তারা গ্যাসের সাথে সমন্বয় করেনি লাইনটি কোনদিকে গেছে। তারা তাদের খুঁটি তাদের মতো স্থাপন করেছে। খুঁটির নিচে বা পাশে গ্যাসের লাইন আছে ওভারলুক করে গেছে। যখন তারা মেশিন দিয়ে কাজ করছে গ্যাসের পাইপটাকে প্রচণ্ড পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যে কারণে গ্যাস নির্গত হয়। আমরা মাটি খুঁড়ে এখন দেখলাম। পিলারের নিচে পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কারণে উপরের ৩৩ কেভি লাইনের তারে স্পার্কিং হচ্ছিল। সেই স্পার্কিং-এ গিয়ে গ্যাসের সংস্পর্শে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড হয়। রাত থেকে গ্যাস বন্ধ করে কাজ করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। এ লাইনে সামনে আরেকটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত।’

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও খুঁটির কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেশ ইঞ্জিনিয়ার্স এর সাব-ঠিকাদার কাঞ্চন কুমার শিকদার মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিজাইন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ। আমরা লেবার দিয়ে কাজ করাই ডিজাইন অনুসারে। আমাদের যেদিকে কাজ করেছি ওদিকে আগের লাইন ছিল। এটা নতুন করে করি নাই। ঠিক একই এলাইনমেন্টে কাজ করে গেছি। মাটির নিচে পাইপ থাকলেও যতটুকু গর্ত লেবার করেছে তারা দেখতে পায়নি। দেখলে হয়ত আমাদের জানাত। সাইট ইঞ্জিনিয়ার ছিল কেউই দেখতে পায়নি আসলে। মাটির নিচের জিনিস না দেখা গেলে কি করা। এতদিন গ্যাসের লোকজনও আমাদের বাধা দেয়নি। একটা দুর্ঘটনা ঘটলে কি করা; দুর্ঘটনা তো দুর্ঘটনাই।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন