আমিও চাই কামরানের স্মৃতি ধরে রাখতে: মেয়র আরিফ - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

আমিও চাই কামরানের স্মৃতি ধরে রাখতে: মেয়র আরিফ


নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট:
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘সিসিকের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাকে শ্রদ্ধা করি এবং আমি চাই তার স্মৃতি ধরে রাখতে।’

সোমবার (২৭ জুলাই) ‘নগর চত্বর’কে ‘জননেতা কামরান চত্বর’ নামকরণের দাবীর প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাতাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এক নিবেদিত প্রাণ নেতা। তিনি দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থেকে নগরবাসীদের সেবা দিয়ে গেছেন। আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তাকে শ্রদ্ধা করি এবং আমি চাই তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মৃত্যুবরণ করার পর বিভিন্ন টক শোতে অনুষ্ঠিত হয়। তেমনই এক টক শোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ছিলেন। সেই টক শোতে অধ্যাপক জাকির হোসেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সামনের এই পয়েন্টকে প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নামকরণের জন্য প্রস্তাব তুলেন এবং তিনি নির্দিষ্টভাবেই এই প্রস্তাব তুলেন। একইসাথে তিনি এও বলেছিলেন’ ‘‘মেয়র মহোদয় আশাকরি আমার এ প্রস্তাবনার ব্যাপারটা ভেবে দেখবেন।’’ ‘অধ্যাপক জাকির হোসেনের এমন প্রস্তাব শুনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, যেখানে সুন্দর হয় সেখানেই বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নাম রেখে কিছু একটা করা উচিৎ। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থান উল্লেখ করেননি।’

মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘প্রস্তাবটি সুন্দর একটি প্রস্তাব। তবে তা এককভাবে সিদ্ধান্ত আমি নিতেও পারি না বা দিতেও পারি না। তাছাড়া মুখে মুখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াও যায় না। এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের সামনের এই পয়েন্টকে প্রয়াত বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নামকরণের জন্য লিখিতভাবে কেউ আমাকে কিছু জানাননি। আমি শুধু বিভিন্ন মানুষের মুখে ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তারপরও এটাকেই আমি প্রস্তাব ধরে নিয়ে আমি আমার কার্যক্রমে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, বর্তমানে ‘নগর চত্বর’ এর নামকরণের ব্যাপার নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হলো তখনই আমার কাছে প্রস্তাব আসতে শুরু করে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ইফতেখার হোসেন শামীম, বাংলাদেশের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য প্রয়াত দেওয়ান ফরিদ গাজী, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন, আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বীর প্রতীক এনামুল হক চৌধুরী, বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও অর্থনৈতিক সংস্কারক সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নামে নামকরণের জন্য প্রস্তাব আসে। এরা সকলেই সম্মানী লোক, এদের সকলের নামেই নামকরণ করা উচিৎ। তবে এমন ঢালাওভাবে বললে হবে না।’

সিসিক মেয়র আরও বলেন, বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ভাইয়ের মৃত্যুর পরে আগামীকালই আমাদের সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। এর আগে কোভিড-১৯ এর জন্য সিসিকের কোন সভা বা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই আগামীকালের পরিষদের মিটিংয়ে আমি প্রস্তাবনাটি রাখবো, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা আমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। আর সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেটাই আমি বাস্তবায়ন করবো।

সিসিক মেয়র বলেন, কামরান ভাইয়ের পরিবার থেকে (তার ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু) প্রস্তাব আসে কোন প্রতিষ্ঠানকে বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নামে নামকরণ করার। বিষয়ে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্ত হলে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠাবো।

সিসিক মেয়র আরও বলেন, সিটি পয়েন্ট বা নগর চত্বর নগরীর কেন্দ্রস্থলের একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড। এখানে ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়িয়ে সিগনাল করার ব্যবস্থা রয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে এখানে দেশে ও বিদেশে সিলেটের প্রতীকখ্যাত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার আদলে একটি নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন কোনো নামকরণ করা হয়নি। প্রস্তাবিত নামকরণগুলো বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন সাপেক্ষে গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির নামকরণ হোক, এটাই আমার প্রত্যাশা।

এর আগে দুপুরে ‘নগর চত্বর’রে ‘জননেতা কামরান চত্বর’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন কামরান সমর্থকরা। এসময় আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিছিলও করেন তারা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন