অনলাইন ক্লাস নিয়ে দ্বিধা দন্দ্বে শাবির ছাত্র-ছাত্রীরা - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

অনলাইন ক্লাস নিয়ে দ্বিধা দন্দ্বে শাবির ছাত্র-ছাত্রীরা


আজিজুল ইসলাম,শাবি প্রতিনিধি:
পকেটে এক টাকা নেই। গত চার মাসে বা অনেক আগেই টিউশনি থেকে আয়কৃত টাকা শেষ। কিন্তু এই বয়সে এসে প্রয়োজন শেষ হয় নি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে।  যে পরিস্থিতির সম্মুখে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর দাড়ানোর কথা সেটা যেন মহামারি করোনা অনেক এগিয়ে নিয়ে এসেছে তাও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টার এমনকি হোম টিউশনগুলো বন্ধ করে।
আর এমন অবস্থা ধনী, মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র কোন নির্দিষ্ট শ্রেনীর মানুষের নয় বরং সকল শ্রেনীর বেকার  শিক্ষার্থীদের সবার।
মনে পড়ছে জাতীয় সংসদে কোন এক সাংসদের গত হওয়া বক্তব্যের একটা লাইন,

" কি যে কষ্টে আছি মাননীয় স্পিকার এসব ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। "

আবার তুলনামূলকভাবে ভাবছি পিতামাতা যে কতটা কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেন তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য বা কতটা অসহায় সেটা যেন কিছুটা হলেও অনুভূত হচ্ছে। পিতামাতার প্রয়োজন পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এই প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য।
আর তাদের এই প্রয়োজন হচ্ছে সন্তানরা মানে আমরা।আর এখন এই পরিস্থিতিতে তাদের একটাই প্রয়োজন আর সেটা হচ্ছে সন্তানদের মুখে তিনবেলা অন্ন তুলে দেয়া।
একজন যুবক হিসেবে আমার নিজের প্রয়োজন মেটাতে এই পরিস্থিতিতে আমি অসহায় হলেও বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছি না কারণ দেয়ালে পিঠ ঠেকে নি এখনো। অনেক কষ্ট বা সমস্যায় আছি ঠিকই কিন্তু পিতামাতার অসহায়ত্বের ধাপ এমন যে করোনা নামক মহামারিকে তুচ্ছ করে বাইরে যেতে তারা বাধ্য তাও শত কষ্ট ও সমস্যা সত্ত্বেও।
আর এটা দেখে আবার আমাদের খারাপ লাগা আরও অনেক গুন বেড়ে যাচ্ছে যে, পিতামাতার কথা বাদ দিলাম অন্তত নিজের প্রয়োজন ও মেস ভাড়াটা বহন করতে পারলেও কাঠিন্য কিছুটা হলেও কম হতো। কিছুই না করে বসে বসে দেখছি যা মানসিকভাবে চাপের সৃষ্টি করছে। আর এই মানসিক চাপ থেকে বাচতে মেসে ফিরতেও অনেকেই পারছে না। কারণ বাসায় বসে যে ফ্রিতে তিনবেলা খাচ্ছি মেসে গেলে সেটা জোগাড় করতে হবে কেননা খাবারের টাকা পরিবারের কাছ থেকে চাওয়ার কোন মুখ নেই।
আবার অনেক ক্ষেত্রে এই করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারের পক্ষে আলাদাভাবে খাবারের টাকা দেয়া সম্ভব নয়। 
এর সাথে আবার যুক্ত হয়েছে অনলাইন ক্লাস নামক ফ্যান্টাসি যা প্রয়োজন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ডাটা প্যাক ক্রয়, আবার ক্রয় করলেও নেটওয়ার্ক এর খুবই খারাপ অবস্থা, আবার কোথাও ফোর জি রাত ১২ টার পর কিছুটা পাওয়া যায় তারপর আবার ডিভাইস এর কার্যকারিতা আরও কতো কি! এগুলো আবার আমাদেরকেই দেখতে হবে কারণ পরিবারকে বাড়তি চাপ দেয়ার ইচ্ছা ও অপশন নেই। 

আমরা বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত/নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেনীর। অনেকের পরিবারে এখনো বাবা/মা একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অনেকের আবার বাবা নেই। অনেকেই আবার টিউশন এর টাকা দিয়ে নিজেকে ও পরিবারকে দেখাশোনা করেন। অনেকে খুবই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন যে ল্যাপটপ তো দূরের কথা ভালো মানের এন্ড্রয়েড ফোন অউন করেন না। কারোর আবার খুবই নিম্নমানের সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন। বেশিরভাগ আবার প্রত্যন্ত গ্রামের লোক। এমন অনেক আছেন যারা একসময় শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন নিজ সুবিধার্থে কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তারাও হয়েছেন গ্রামমুখী৷ আর গ্রামে অনেককেই ক্ষেতখামার করেই চলতে হয়। আর গ্রামের নেটওয়ার্ক এর অবস্থা আমাদের জানা। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমুখী শিক্ষার্থীদের ছড়াছড়ি। তাই তাদের প্রত্যেকের সমস্যাও এক নয় বরং বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন ধরণের। তাই তাদের এসকল সমস্যার নিষ্পত্তি  একটি/ দুটি সমস্যার আংশিক সমাধান দিয়ে সম্ভব নয়। এমন হলে একটা বড় অংশের সমস্যা থেকেই যাবে। আর আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সমস্যার যতটুকু সম্ভব যৌক্তিক
সমাধান চাই যাতে সবাই একসাথে ক্লাস করতে পারি। কেউ যাতে ক্লাস করতে অক্ষম থেকে না যায়। 
তারা বলেন আমরা ক্লাস করতে চাই তবে স্বার্থপরের মতো নয়। কিংবা শুধু পাস করে যাওয়ার জন্য নয়। আমরা ক্লাস করতে চাই সবাই একসাথে, সবার শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করে,এক কাতারে, সক্ষমতা সাথে সবচেয়ে কম সংখ্যক সমস্যা নিয়ে ও ক্লাসের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে, আমাদের শিক্ষকদের বাধ্যগত থেকে।
এ ব্যাপারে শাবিপ্রবির মাননীয়  উপাচার্য স্যার ফরিদ উদ্দীন আহমেদ বলেন আমরা ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প মূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার জন্য গ্রামীন ফোনের সাথে একটি চুক্তি করেছি এবং খুব শীগ্রই এ সেবা দেওয়া হবে।    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন