৫৯০ বার জিন পাল্টেছে করোনা ভাইরাস - Sangbad Protidin | সংবাদ প্রতিদিন

ব্রেকিং নিউজ

সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

৫৯০ বার জিন পাল্টেছে করোনা ভাইরাস


মহিউদ্দিন মারুফ:
কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস, বর্তমান সময়ের এক আতংকের নাম। যা প্রথম শনাক্ত হয়েছিল চিনের উহানে। বর্তমানে এটি সারা বিশ্বেই বিরাজমান। একে থামাবার মত ঔষধ এখনও তৈরী করতে পারে নি কেউ। যার ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মার্চ মাসের ৮ তারিখে এই ভাইরাস শনাক্ত হয় বাংলাদেশেও।
 বাংলাদেশেও বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ২০৪৫২৫, সুস্থ হয়েছেন ১১১৬৪৪ এবং মৃতের সংখ্যা  ২৬১৮৷ অনেক মানুষ হারিয়েছে কর্ম সংস্থান, কেউ বা আবার নিজের ব্যবসায়িক স্কুল, রেস্টুরেন্ট কিংবা বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বিক্রিও করে দিচ্ছেন। তবে অবাক করার বিষয় এটা যে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ার পর মোট ৫৯০ বার জিন পাল্টেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ(বিসিএআইআর)। 
গতকাল রবিবার, ১৯শে জুলাই অনুষ্ঠিতব্য  বিসিএসআইআর কর্তৃক গৃহীত করোনাভাইরাসের ৩০০ নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রকল্প সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ১৭১টি কেসের সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। ভাইরাসটি প্রোটিন লেভেলে ২৭৩ বার মিউটেশন করেছে এবং ৩৮টি স্পাইক পরিবর্তন করেছে। এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠনাটি ২২২টি জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। বাংলাদেশে সংক্রমণের প্রধান কারণ ডি৬১৪জি করোনাভাইরাস বলেও শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভাইরাসটি মানুষের শরীরের উপকারি ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় করে দেয়। 
বিসিএসআইআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী  ইয়াফেস ওসমান। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা ৬৭ হাজার ৫২৪ এর বেশি করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স ডাটা বিশ্বজুড়ে গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটা (গ্যাসএইড)-তে প্রকাশ করেছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ১৭৩টি করোনা ভাইরাসের জীবনরহস্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। এগুলো থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের করোনাভাইরাসটি ইতালির ভাইরাসটির সঙ্গে বেশি নিবিড়। পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, নতুন নতুন অস্বাভাবিক সব জিন আমাদের সামনে আসছে, যা গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন